রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা নিয়ে অনেকের মনেই নানা সংশয় রয়েছে। কেউ মনে করেন ব্রাশ করলেই রোজা ভেঙে যায়, আবার কেউ মনে করেন এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই বিষয়টি নিচে পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হলো।
১. রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করার বিধান
ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফতিয়ানে কেরামের মতে, রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না। কারণ ব্রাশ বা পেস্ট সরাসরি খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে না। তবে রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা টুথপাউডার ব্যবহার করা মাকরুহ। কারণ পেস্টের স্বাদ বা কণা অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। আর যদি ব্রাশ করার সময় পেস্ট বা পানি কণ্ঠনালির নিচে চলে যায়, তবে নিশ্চিতভাবে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
২. মিসওয়াক: রোজা অবস্থায় দাঁত পরিষ্কারের সর্বোত্তম সমাধান
রোজা অবস্থায় দাঁত পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে নিরাপদ এবং সুন্নতসম্মত উপায় হলো মিসওয়াক করা। নবীজি (সা.) রোজা অবস্থায়ও প্রচুর মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াক করলে রোজা মাকরুহ হওয়ার কোনো ভয় নেই, বরং এতে দাঁত পরিষ্কার হয় এবং সুন্নতের সওয়াব পাওয়া যায়।
মিসওয়াকের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা না হতো, তবে প্রতি নামাজের সময় তাদের ওপর মিসওয়াক করা ফরজ করে দিতাম।’ (সুনানে আবু দাউদ)
৩. রোজায় দাঁত পরিষ্কার রাখার সঠিক রুটিন
রোজা অবস্থায় মুখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আপনি নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন:
ক. সেহরি শেষ করার পর ফজর নামাজের আগে টুথপেস্ট দিয়ে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করে নিন।
খ. দিনের বেলা দাঁত পরিষ্কার করার জন্য কেবল মিসওয়াক বা খালি ব্রাশ (পেস্ট ছাড়া) ব্যবহার করুন।
গ. রাতের খাবার বা ইফতারের পর আবারও পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারেন।
ঘ. যদি দিনের বেলা ব্রাশ করতেই হয়, তবে খুব সামান্য পরিমাণ এবং কম ঝাঁজালো (কম মিন্ট) পেস্ট ব্যবহার করুন যেন গলার ভেতরে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।