সামাজিক শান্তির পথে অন্যতম বড় বাধা হলো একে অপরের প্রতি অহেতুক সন্দেহ বা কুধারণা পোষণ করা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)। অহেতুক সন্দেহ ও সংশয় থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখতে আমাদের করণীয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
কারও কোনো কাজ বা কথা যদি আপনার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তৎক্ষণাৎ কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার ইতিবাচক ব্যাখ্যা খোঁজা উচিত। ইসলামের স্বর্ণযুগের মনীষীরা বলতেন, ‘তোমার কোনো ভাইয়ের (অপ্রীতিকর) আচরণের জন্য অন্তত ৭০টি অজুহাত খোঁজো।’ অর্থাৎ হতে পারে সে ভুলবশত এটি করেছে অথবা তার কোনো বিশেষ সীমাবদ্ধতা ছিল, যা আপনি জানেন না।
সন্দেহ যখন মনে দানা বাঁধে, তখন মনে মনে বিচারক না সেজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ও নম্রভাবে কথা বলা উচিত। আড়ালে জল্পনাকল্পনা করলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়, কিন্তু সরাসরি ও আন্তরিক আলাপে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।
মানুষ যখন অন্যের ছিদ্রান্বেষণ বা ত্রুটি খুঁজতে ব্যস্ত হয়, তখনই মনে অহেতুক সন্দেহ জন্ম নেয়। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নিরর্থক বিষয় ত্যাগ করা।’ (জামে তিরমিজি)। নিজের আমল ও চরিত্র সংশোধনে মনোযোগী হলে অন্যের খুঁত ধরার সময় ও মানসিকতা—উভয়ই কমে আসে।
ইসলামে একটি মূলনীতি হলো—কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারও ওপর অপবাদ বা সন্দেহ চাপানো যাবে না। শুধু আন্দাজ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া মুমিনের কাজ নয়।
মনকে সংকীর্ণতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত রাখতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা একান্ত জরুরি। বিশেষ করে শয়তানের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) থেকে বাঁচতে এবং অন্তরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বেশি বেশি দোয়া ও জিকির করা উচিত।