পবিত্র কোরআনের ৯৪তম সুরা হলো সুরা ইনশিরাহ (سورة الشرح)। জীবনযুদ্ধে হতাশ মুমিনদের জন্য এই সুরা এক মহা আশা ও সান্ত্বনার বাণী। এতে মহান আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর মর্যাদা ও কষ্টের পরে সুখের অমোঘ সত্যটি বর্ণনা করেছেন।
সুরা ইনশিরাহ
আরবি
বাংলা উচ্চারণ
অনুবাদ
أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ
১. আলাম নাশরাহ লাকা সাদরাক।
আমি কি আপনার কল্যাণে আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি?
وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ
২. ওয়া ওয়াদানা আনকা উইজরাক।
এবং আমি আপনার থেকে অপসারিত করেছি আপনার সেই ভার।
الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ
৩. আল্লাজি আনকাদা জাহরাক।
যা আপনার পিঠ নুইয়ে দিয়েছিল।
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
৪. ওয়া রাফানা লাকা জিকরাক।
এবং আমি আপনার কল্যাণে আপনার মর্যাদাকে (চর্চাকে) উচ্চ শিখরে উন্নীত করেছি।
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
৫. ফা-ইন্না মাআল উসরি ইউসারা।
অতঃপর নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি (সহজ অবস্থা) রয়েছে।
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
৬. ইন্না মাআল উসরি ইউসরা।
নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি রয়েছে।
فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ
৭. ফা-ইজা ফারাগতা ফানসাব।
অতএব, আপনি যখনই অবসর পান, তখনই (ইবাদতে) কঠোর পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করুন।
وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَبْ
৮. ওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব।
আর আপনার প্রতিপালকের প্রতিই নিবিষ্ট হোন।
সুরা ইনশিরাহর শিক্ষা ও তাৎপর্য
- মানসিক প্রশান্তি: এই সুরার প্রথম আয়াতে ‘বক্ষ প্রশস্ত’ করার কথা বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) যখন কাফেরদের অত্যাচারে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত হতেন, তখন আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাঁকে সাহস ও প্রশান্তি দান করেন।
- মর্যাদার সুউচ্চ শিখর: আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসুলের নাম ও মর্যাদাকে এত বেশি সম্মান দিয়েছেন যে, আজান থেকে শুরু করে নামাজের তাশাহহুদ—সবখানেই আল্লাহর নামের সঙ্গেই রাসুলের নাম উচ্চারিত হয়।
- কষ্টের পর স্বস্তি: সুরাটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ আয়াতে দুবার বলা হয়েছে যে—কষ্টের সঙ্গেই সুখ আছে। এটি মুমিনদের জন্য বড় শিক্ষা যে, বর্তমান বিপদই শেষ নয়, ধৈর্য ধরলে সুখের দিন অবশ্যই আসবে।
- অলসতা পরিহার: আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, একটি ভালো কাজ বা দায়িত্ব শেষ করার পর অবসর যাপন না করে পরবর্তী ইবাদত বা জনকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।
সুরা ইনশিরাহ আমাদের শেখায় আল্লাহর ওপর ভরসা করতে। জীবনের কঠিন সময়ে সুরাটি আমাদের মনে প্রশান্তি আনে এবং পরকালের ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।