আখিরাতে মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের চিরস্থায়ী সুখের ঠিকানা হলো জান্নাত। প্রতিটি মুমিনের অন্তরেই জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে। দুনিয়ার ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু সহজ ও সংক্ষিপ্ত দোয়া শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত আমল করলে জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়ে যায়।
হাদিসে এমন একটি চমৎকার দোয়ার কথা এসেছে, যা পাঠ করলে বান্দার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। দোয়াটি হলো: ‘রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাঁও, ওয়া বিল-ইসলামী দীনাঁও, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসুলা।’ অর্থ: আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক বা ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আবু দাউদ: ১৫২৯)
হজরত মুনাইজির (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি সকালে এই দোয়া পড়বে, কেয়ামতের দিন তাকে হাত ধরে জান্নাতে পৌঁছে দেওয়ার জিম্মাদার স্বয়ং আমি।’ (মুজামুল কাবির)
হজরত সাওবান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির নেকি বৃদ্ধির মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত প্রার্থনার জন্য হাদিসে বর্ণিত অত্যন্ত সহজ ও সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া হলো: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকাল জান্নাতা, ওয়া আউজু বিকার মিনান-নার।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাচ্ছি এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুনানে আবু দাউদ)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো বান্দা যদি দিনে বা সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার এই দোয়া পড়ে, তবে জাহান্নাম আল্লাহর কাছে বলে—‘হে রব, আপনার অমুক বান্দা আমার থেকে আশ্রয় চেয়েছে, তাকে আশ্রয় দিন।’ আর জান্নাত বলে—‘হে প্রতিপালক, আপনার অমুক বান্দা আমার প্রার্থনা করেছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।’ (মুসনাদে আবু ইআলা)