হোম > ইসলাম

সাহাবিদের অনন্য ৮ গুণ

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ 

ব্লু মসজিদ, ইস্তাম্বুল। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিরা হলেন নবীজি (সা.)-এর নুরানি পরশ পাওয়া অনন্য জামাত। তাঁরা ছিলেন নবীজির সহচর। ইসলামের সুমহান সত্য প্রচারে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন তাঁরা। সাহাবিদের জীবন আমাদের জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।

সাহাবিদের অনন্য কিছু গুণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ইমান ও বিশ্বাসের অটল দৃঢ়তা

সাহাবিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ইমানের অবিচলতা। সব ধরনের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও তাঁরা ইসলামের নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তারা তাঁদের সঙ্গী হবে, যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন।’ (সুরা নিসা: ৬৯)

২. অতুলনীয় ত্যাগ ও নিঃস্বার্থতা

দ্বীনের প্রয়োজনে সাহাবিরা তাঁদের ধনসম্পদ, ঘরবাড়ি এবং পরিবার ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি। আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সাহাবিদের মর্যাদা সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার সাহাবিদের গালি দিয়ো না। আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো, তবু তাঁদের সামান্য দান বা তার অর্ধেক পুণ্যের সমান হতে পারবে না।’ (সহিহ্ বুখারি)

৩. বীরত্ব ও আদর্শিক কঠোরতা

বদর, ওহুদ, খন্দকসহ প্রতিটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহাবিদের সাহস ও দৃঢ়তা ইসলামের ভিত মজবুত করেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা যদি আল্লাহকে (তাঁর দ্বীনকে) সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করে দেবেন।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৭)

৪. চারিত্রিক মাধুর্য ও নৈতিকতা

সাহাবিরা ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তাঁরা শুধু ইবাদত নয়, বরং মানুষের সেবা, দান-সদকা এবং সামাজিক ইনসাফ কায়েমেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নবীজী (সা.) তাঁদের হিদায়াতের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৫. সহানুভূতি ও সামাজিক সৌজন্য

সাহাবিরা ছিলেন একে অপরের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তাঁরা এতিম, মিসকিন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। পবিত্র কোরআনে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয়।’ (সুরা হাশর)

৬. ইলম অন্বেষণ ও সুন্নাহর অনুসরণ

সাহাবিরা নবী করিম (সা.)-এর প্রতিটি কথা ও কাজ অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শিখতেন এবং তা জীবনে বাস্তবায়ন করতেন। দ্বীনের জ্ঞান অর্জনকে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

৭. ধৈর্য ও অবিচলতা

মক্কার তপ্ত বালু থেকে শুরু করে যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত সাহাবিরা ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিয়েছেন। বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ছিল তাঁদের মজ্জাগত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনফাল: ৪৬)

৮. রাসুল (সা.)-এর প্রতি নিখাদ আনুগত্য

নবী করিম (সা.)-এর একটি ইশারায় সাহাবিরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকতেন। তাঁদের জীবনের মূলমন্ত্রই ছিল—‘শুনলাম ও মেনে নিলাম।’ নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ্ বুখারি)

সাহাবিরা হলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড। তাঁদের ইমান, ত্যাগ, বীরত্ব, নৈতিকতা এবং ধৈর্য প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনুসরণীয়। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। সাহাবিদের জীবন আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ এবং নবীজির পূর্ণ আনুগত্য ছাড়া ইসলামের পথে প্রকৃত সাফল্য সম্ভব নয়।

বেফাক পরীক্ষা: কওমি মাদ্রাসার বছর শেষের উৎসবমুখর পড়াশোনা

রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদে মুমিনের করণীয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

গিবতের ভয়াবহ ৬ কুফল

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১২ জানুয়ারি ২০২৬

নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রবাসীদের নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিন্নধর্মী আয়োজন

তওবা: মুমিনের নবজাগরণের পথ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১১ জানুয়ারি ২০২৬

পণ্য মজুতদারি ও সিন্ডিকেট: ইসলামের সতর্কবার্তা