হোম > ইসলাম

আপনার জিজ্ঞাসা

ইবাদত-বন্দেগিতে আগ্রহ বাড়াবেন যেভাবে

মুফতি শাব্বির আহমদ

প্রশ্ন: সারা দিনের কর্মব্যস্ততা এবং বিভিন্ন পেরেশানির কারণে ইবাদত-বন্দেগিতে মন বসাতে পারি না। ইবাদতে আগ্রহ বাড়ানোর উপায় কী? জানতে চাই।

শমসের তালুকদার, ফেনী

উত্তর: একজন মুসলমানের পুরো জীবনটাই মূলত ইবাদত-নির্ভর। দৈনন্দিন জীবনের ছোট-বড় যেকোনো বৈধ কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হতে পারে, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক সম্পাদিত হয়। এর পাশাপাশি ইসলামে স্বতন্ত্র নামাজ, রোজা, জিকির ও তাসবিহ-তাহলিলের মতো অজস্র ইবাদত রয়েছে। মুমিনের ভয়, চিন্তা, কর্ম ও আচরণ—সবকিছুই আবর্তিত হয় পরকালকে কেন্দ্র করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, ‘এবং যাঁরা তাদের রবের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে—এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে।’ (সুরা মুমিনুন: ৬০)

মুমিন সর্বদা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায় এবং তাঁর ভালোবাসার ময়দানে এগিয়ে যেতে উন্মুখ থাকে। আর এ পথের একমাত্র প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। কিন্তু অনেক সময় মানুষের মন বা আত্মায় অলসতা ভর করে, ফলে ইবাদত-বন্দেগি কিংবা ভালো কাজে আগের মতো মন বসে না। এমন পরিস্থিতিতে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ানোর জন্য আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়।

নবীজি (সা.)-এর এক অনন্য অসিয়ত ও বিশেষ দোয়া

ইবাদতে আগ্রহ বাড়ানো, আল্লাহর স্মরণে মনকে সিক্ত রাখা এবং উত্তম উপায়ে আমল করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি চমৎকার দোয়া শিখিয়েছেন। বিশেষ করে এই দোয়াটির নেপথ্যে রয়েছে নবীজি (সা.) এবং তাঁর একজন প্রিয় সাহাবির মধ্যকার গভীর ভালোবাসার এক অনুপম উপাখ্যান।

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার হাত ধরে বললেন, ‘হে মুআজ, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি।’ এরপর বললেন, ‘হে মুআজ, আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রতি নামাজের পর এই দোয়াটি পড়া কখনো পরিহার করবে না।’ (সুনানু আবু দাউদ: ১৫২২)

নবীজি (সা.)-এর শেখানো সেই বিশেষ দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনার স্মরণে (জিকির করতে), আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে (শোকরগোজার হতে) এবং আপনার উত্তম ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।’

হজরত মুআজ (রা.) নবীজির এই অসিয়তটি এত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন যে তিনি পরবর্তী সময়ে তাঁর শাগরেদদের একইভাবে হাত ধরে ভালোবেসে এই দোয়াটি পড়ার অসিয়ত করেছিলেন।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

মুসলিমদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি চালু হয়েছিল যেভাবে

আশুরা ও কারবালার আলোকে মহররমের ৫ শিক্ষা

মেক্সিকোতে মসজিদ গড়ে ওঠার অজানা ইতিহাস

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ জুন ২০২৬

দোয়া কবুলের জন্য যে নিয়মগুলো মানতে হবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জুন ২০২৬

ইতিহাসে প্রথমবার রেকর্ড ১৩টি মুসলিম দেশ খেলছে বিশ্বকাপে

আলজেরিয়ার যে মসজিদে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার

সালামের উত্তর কি মনে মনে দেওয়া যাবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ জুন ২০২৬