মানুষের জীবন একটি স্বল্পকালীন যাত্রা। পথের দুই ধারে কত রং, প্রলোভন আর আকর্ষণ; ধনদৌলতের ঝলক, খ্যাতির হাতছানি, ক্ষমতার নেশা কিংবা আরাম-আয়েশের চাহিদা। এসব বৈধ নিয়ামত উপভোগ করা যাবে না, ইসলাম এমন কথা বলে না। ইসলাম বরং দুনিয়াকে আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখায়।
বিপদ হয় তখনই, যখন দুনিয়া মানুষের হাতে থাকার পরিবর্তে হৃদয়ের সিংহাসনে বসে যায়। তখন বিত্তবৈভব হয়ে ওঠে অহংকারের কারণ, সাফল্য হয়ে ওঠে আত্মভোলার উপকরণ আর জাগতিক ভালোবাসা হয়ে ওঠে চূড়ান্ত সফলতার অন্তরায়।
দুনিয়ার মোহের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এটি সাময়িককে চূড়ান্ত এবং অনিত্যকে স্থায়ী বলে ভাবতে শেখায়। যে মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধনসম্পদ, ব্যবসা, বাড়ি, গাড়ি, পদ-পদবি ও সামাজিক মর্যাদার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ধীরে ধীরে সে হাশরের প্রস্তুতি নিতে ভুলে যায়।
অথচ এই পৃথিবী মুমিনের প্রকৃত গন্তব্য নয়। এটি পরীক্ষার ময়দান। এখানে তাকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে, একদিন সেসবের জবাবদিহি করতে হবে।
মুমিন তাই দুনিয়ার পথে হাঁটবে, কিন্তু একে নিজের গন্তব্য বানাবে না। তার হাত থাকবে জাগতিক কাজে ব্যস্ত, কিন্তু চিত্ত থাকবে শাশ্বত মুক্তির প্রত্যাশায় নিবিষ্ট।
গাফেল করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে।’ (সুরা মুনাফিকুন: ৯)
এই আয়াতে মুমিনের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিত্ত যদি আল্লাহর আনুগত্যে সহায়ক হয়, তবে তা নিয়ামত। আর যদি তা প্রভুর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সেই ঐশ্বর্যই হয়ে ওঠে পরীক্ষার উপকরণ।
দুনিয়ার মোহ মানুষকে এমন এক দৌড়ে নামিয়ে দেয়, যার শেষ কোথায় সে নিজেও জানে না। এক পাহাড় জয় করার পর আরেক চূড়া সামনে আসে। একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলে নতুন দশটি চাহিদা জন্ম নেয়। ফলে হৃদয়ে প্রশান্তির পরিবর্তে অস্থিরতা জেঁকে বসে।
দুনিয়া ক্ষণিকের অতিথিশালা, আখিরাত চিরস্থায়ী আবাস। মুমিনের করণীয় হলো, সাময়িক আবাসন সাজাতে গিয়ে স্থায়ী নিবাসটিকে ভুলে না যাওয়া।