সেজদাহ হলো মহান আল্লাহর সামনে বিনয়ের চরম স্তর। এক সেজদাহ থেকে উঠে দ্বিতীয় সেজদায় যাওয়ার আগে সোজা হয়ে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে স্থির হয়ে বসে দোয়া করা সুন্নত। রাসুল (সা.) নিজে এই বৈঠকে নিয়মিত দোয়া পড়তেন এবং সাহাবিদেরও শিক্ষা দিতেন।
নামাজ হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন বা অঙ্গভঙ্গি অত্যন্ত অর্থবহ। সাধারণত আমরা সেজদাহ এবং রুকুর তাসবিহ নিয়ে খুব সচেতন থাকি, কিন্তু দুই সেজদার মধ্যবর্তী সময়ের আমলটি অনেক সময় অবহেলায় অতিবাহিত করি।
অথচ দুই সেজদার মাঝখানে বসা এবং দোয়া করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।
হাদিসে দুই সেজদার মাঝখানে পড়ার জন্য ছোট এবং বড় কয়েক ধরনের দোয়ার বর্ণনা এসেছে।
اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَاجْبُرْنِي وَارْزُقْنِيْ وَارْفَعْنِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়াজবুরনি, ওয়ারযুকনি, ওয়ারফানি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমার দুর্বলতা বা ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। (সুনানে আবু দাউদ: ৮৫০; সুনানে ইবনে মাজাহ)
যদি কেউ বড় দোয়াটি পড়তে না পারেন, তবে অন্তত এই ছোট দোয়াটি পড়তে পারেন—যা রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত:
رَبِّ اغْفِرْلِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: রাব্বিগফির লি, রাব্বিগফির লি।
অর্থ: হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
এই ছোট্ট দোয়ার ভেতরে একজন মুমিনের ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে:
এ ছাড়া দুই সেজদার মাঝে স্থির হয়ে দোয়া পড়ার মাধ্যমে নামাজের একাগ্রতা (খুশু-খুজু) বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।