হোম > ইসলাম

যে নারীদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

ইসলাম ডেস্ক 

কোরবানি উপযুক্ত পশুর যত্ন নিচ্ছেন এক নারী। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

কোরবানি ইসলামের অন্যতম একটি মৌলিক ইবাদত। আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, কোরবানি কেবল পরিবারের পুরুষ বা উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের ওপরই বর্তায়। অনেক নারীই মনে করেন, যেহেতু তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত আয় বা ইনকাম নেই, সেহেতু তাঁদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হওয়া কেবল উপার্জনক্ষম হওয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকানার ওপর।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ

ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া কোনো শর্ত নয়, বরং যেকোনো মুসলিম নারী যদি ঈদুল আজহার তিন দিন (১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) নিম্নলিখিত শর্তাবলির অধিকারী হন, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব:

  • ১. মুসলিম হওয়া।
  • ২. বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
  • ৩. মুকিম হওয়া (অর্থাৎ মুসাফির না হওয়া)।
  • ৪. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।

নিসাব বা সামর্থ্যের মাপকাঠি

একজন নারীর কাছে যদি তাঁর মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণ-রুপা বা সামগ্রী থাকে—যার বাজারমূল্য সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। এই নিসাব গণনার ক্ষেত্রে নারীর ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকার, টাকাপয়সা, অলংকার, প্রয়োজনে আসে না এমন জমি বা বাড়ি এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্য হিসাব করা হবে।

মনে রাখা জরুরি যে, নিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার উপযোগী হওয়া (যেমন—ব্যবসা বা জাকাতের মতো এক বছর অতিবাহিত হওয়া) শর্ত নয়। কোরবানির দিনগুলোতে এই পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কোরবানি আবশ্যক হয়ে যায়।

স্বামীর কোরবানি কি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট

আমাদের সমাজের একটি বড় ভুল ধারণা হলো—স্বামী কোরবানি দিলে স্ত্রীর আর আলাদা কোরবানির প্রয়োজন নেই। অথচ বাস্তবতা হলো, স্বামীর কোরবানি তাঁর নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে। স্ত্রীর যদি আলাদা নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন—স্বর্ণালংকার বা নগদ অর্থ) থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই নিজের পক্ষ থেকে পৃথক কোরবানি দিতে হবে।

স্বামীর কোরবানি দিয়ে স্ত্রীর ওয়াজিব কোনোভাবেই আদায় হবে না। যদি স্ত্রী সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না দেন, তবে তিনি ওয়াজিব পরিত্যাগ করার গুনাহে লিপ্ত হবেন।

নগদ অর্থ না থাকলে সমাধান কী

অনেক সময় নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ স্বর্ণালংকার থাকলেও পশু কেনার মতো নগদ অর্থ থাকে না। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এর দুটি সহজ সমাধান রয়েছে:

  1. সোনা বিক্রয়: প্রয়োজনে অলংকারের সামান্য অংশ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করতে হবে।
  2. স্বামীর সহযোগিতা: স্ত্রী যদি স্বামীকে অনুরোধ করেন এবং স্বামী নিজ ইচ্ছায় ও স্ত্রীর সম্মতিক্রমে স্ত্রীর পক্ষ থেকে পশু কোরবানি করে দেন, তবে স্ত্রীর কোরবানি আদায় হয়ে যাবে।

বিগত বছরের অনাদায়ী কোরবানি

যদি কোনো নারী গত কয়েক বছর ধরে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না দিয়ে থাকেন, তবে সেই দায়িত্ব তাঁর ওপর থেকে যায় না। এ ক্ষেত্রে বিধান হলো—প্রতিটি বছরের কোরবানির বদলে একটি কোরবানির উপযুক্ত ছাগলের মূল্য গরিব-দুঃখীকে সদকা করে দিতে হবে। তবেই তিনি এই জিম্মা থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: আদ-দুররুল মুখতার, ফাতাওয়ায়ে শামি (৬/৩১২), ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (১/১৯১)

কাবাঘরের ভেতরে কী আছে, দেখতে কেমন

কোরবানির পশুর যেসব অঙ্গ অপছন্দ করতেন নবীজি (সা.)

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ মে ২০২৬

যে সাহাবির জন্ম হয়েছিল কাবা শরিফের ভেতরে

এ বছর কত টাকার মালিক হলে কোরবানি দিতে হবে

কোরবানির গরুর সঙ্গে পাওয়া ফ্রি ছাগলের বিধান কী

সামর্থ্যবান স্বামী-স্ত্রীর ওপর কি পৃথক কোরবানি ওয়াজিব

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৬ মে ২০২৬

হজের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও শিক্ষা

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১৫ আমল