বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতি চলছে পবিত্র রমজান মাসের। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এবারের রোজা। উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল হওয়ায় এবার সেখানকার দেশগুলোতে রোজার সময় তুলনামূলক কম হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে গত বছরের তুলনায় রোজার সময় কিছুটা বাড়বে।
রোজার মূল উদ্দেশ্য ও হিজরি ক্যালেন্ডার
রমজান মাসে মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ধূমপান এবং শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন করা। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এই রোজার সময় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ইসলামি ক্যালেন্ডার বা হিজরি বর্ষ চন্দ্র মাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যা ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। যেহেতু চন্দ্র বছর সৌর বছরের তুলনায় ১১ দিন ছোট, তাই প্রতি বছর রমজান ১০ থেকে ১২ দিন আগে এগিয়ে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বিশ্বে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—প্রথমটি শুরু হবে ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর।
বিশ্বজুড়ে রোজার সময়কাল
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করেন। তাদের জন্য এ বছর রোজার সময় গতবারের চেয়ে কিছুটা কম হবে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সময় কমতে থাকবে, কারণ তখন রমজান মাস পড়বে ‘শীতকালীন অয়নকাল’ বা বছরের সংক্ষিপ্ততম দিনে।
উত্তর গোলার্ধ (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া)—এখানকার দেশগুলোতে রোজার সময় হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা। তবে মাস যত গড়াবে, দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজার সময়ও কিছুটা বাড়বে।
দক্ষিণ গোলার্ধ (চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা)—দক্ষিণ গোলার্ধে এখন গ্রীষ্মকাল শেষ হয়ে শরতের দিকে যাচ্ছে। তাই প্রথম দিনে রোজার সময় হবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। তবে মাসের শেষের দিকে রোজার সময় কিছুটা কমে আসবে।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য সময়সূচি
নিচে বিশ্বের প্রধান কয়েকটি শহরের প্রথম ও শেষ দিনের সাহরি, ইফতার এবং রোজার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হলো—
(দ্রষ্টব্য: চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই সময় ১-২ দিন এদিক-সেদিক হতে পারে।)
বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো নিজ নিজ ভাষায় রমজানের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো—‘রমজান মোবারক’ (শুভ রমজান) এবং ‘রমজান করিম’ (রমজান আপনার জন্য মহিমান্বিত হোক)।
ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছরই রোজার সময় ও আমেজ পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দাদের জন্য এবারের রমজান কিছুটা আরামদায়ক হলেও দক্ষিণ গোলার্ধের মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে।
আজ সোমবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শাবান মাসের চাঁদের ছবি ধারণ করেছে আল খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই ছবি তোলা হয়।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফতোয়া কাউন্সিল আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় আবুধাবির কাসর আল হোসনে ‘মুন সাইটিং’ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শেখ আবদুল্লাহ বিন শেখ আল মাহফুজ বিন বাইয়াহর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মাগরিবের নামাজের পর বিভিন্ন মানমন্দিরের রিপোর্ট এবং জনসাধারণের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও আগামীকাল (২৯ শাবান ১৪৪৭ হিজরি) সন্ধ্যায় দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদি আগামীকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হবে। অন্যথায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হবে।
মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেলে সৌদিতে বুধবার রোজা শুরু হবে, অন্যথায় বৃহস্পতিবার। সাধারণত সৌদি আরবে রোজা শুরুর এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা