আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস মাহে রমজান হলো ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত লাভের সময়। রমজানে একটি নফল ইবাদতে ফরজের সওয়াব এবং একটি ফরজে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
এক মরুচারী সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে জান্নাতে যাওয়ার আমল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, ফরজ নামাজ আদায় করবে, জাকাত দেবে এবং রমজানের রোজা পালন করবে।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৩১৫)। অর্থাৎ, রমজানের রোজা পালন জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত ও মাধ্যম।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন মসজিদের মিম্বারে আরোহণের সময় তিনবার ‘আমিন’ বলেছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, জিবরাইল (আ.) তিনটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন:
রোজা রাখা মানে কেবল না খেয়ে থাকা নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু পাপ বর্জন না করলে সেই রোজা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না: ১. মিথ্যাবাদী: যারা রোজা রেখেও মিথ্যা কথা বলা ছাড়ে না। ২. পাপাচারী ও মূর্খতা প্রদর্শনকারী: যারা পাপাচার এবং সে অনুযায়ী কাজ করা কিংবা ঝগড়া-বিবাদ (মূর্খতা) ত্যাগ করে না।
নবীজি (সা.) বলেন—‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা আর মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৬৩১)
রমজান হলো নিজেকে বদলে ফেলার মাস। এ মাসে আমরা যেন কেবল ক্ষুধার্ত না থাকি, বরং প্রতিটি অঙ্গের রোজা নিশ্চিত করি। মিথ্যা, গিবত এবং হারাব বর্জন করে প্রকৃত তাকওয়া অর্জনই হোক আমাদের লক্ষ্য।