হোম > ইসলাম

ইবনে হাজার আসকালানি: হাদিসশাস্ত্রের অবিসংবাদিত নক্ষত্র

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী

ইবনে হাজার আসকালানির সমাধি, মিসর, কায়রো। ছবি: উইকিপিডিয়া

ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যেসব মনীষী তাঁদের মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) অন্যতম। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও আইনবিদ। তাঁর পাণ্ডিত্য ও অবদানের কারণে তাঁকে আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বা হাদিসশাস্ত্রের সেনাপতি বলা হয়।

জন্ম ও শৈশব

ইমাম ইবনে হাজারের পুরো নাম আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলি আল-আসকালানি। তিনি মিসরের কায়রোতে ৭৭৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন, কিন্তু তাঁর মেধা ছিল প্রবাদপ্রতিম। বিখ্যাত পণ্ডিত জাকিস আল-খারুবির তত্ত্বাবধানে তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সে কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও সাহিত্যে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন।

সহিহ বুখারির শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ

ইমাম ইবনে হাজারের সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো ‘ফাতহুল বারি’। এটি ইমাম বুখারির সহিহুল বুখারির সবচেয়ে প্রামাণ্য ও গভীরতম ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: গ্রন্থটি সম্পন্ন হওয়ার পর তৎকালীন রাজপ্রাসাদে এক বিশাল সমাপনী উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল।
  • মূল্য: সেই যুগে বিভিন্ন অঞ্চলের রাজা-বাদশাহরা প্রায় ৩০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে এর একটি কপি সংগ্রহের জন্য উন্মুখ থাকতেন। হাদিস বিশারদদের মতে, এর আগে বা পরে সহিহ্ বুখারির এত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা আর রচিত হয়নি।

বিখ্যাত ওস্তাদ ও পাণ্ডিত্য

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

  • হাদিস ও ফিকহ: ইমাম বুলকিনি ও ইবনুল মুলাক্কিনের কাছে তিনি হাদিসের গূঢ় রহস্য এবং ফিকহের সূক্ষ্ম বিষয়াদি আয়ত্ত করেন।
  • ভাষা ও সাহিত্য: ‘আল-কামুস’ অভিধানের প্রণেতা আল-মাজদি ও আল-গামারির কাছে তিনি ভাষাজ্ঞান এবং সাহিত্যের দীক্ষা নেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি মিসর, সিরিয়া, হিজাজ ও ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করেছেন, যা ইসলামি ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

অমূল্য রচনাসম্ভার

তিনি প্রায় ১৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আজ অবধি মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো:

  1. ফাতহুল বারি: সহিহ বুখারির বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
  2. বুলুগুল মারাম: আইনি হাদিসের সংকলন (যা বাংলাদেশেও অত্যন্ত জনপ্রিয়)।
  3. আল-ইসাবাহ: সাহাবিদের জীবনীবিষয়ক আকর গ্রন্থ।
  4. তাহজিবুত তাহজিব: হাদিসের বর্ণনাকারীদের পরিচয় ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের কোষগ্রন্থ।
  5. লিসানুল মিজান: রিজাল শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই।

শিক্ষক হিসেবে ইমাম ইবনে হাজার

তিনি কেবল লেখকই ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কায়রোর বিশ্বখ্যাত জামে আল আজহারসহ অনেক প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি হাদিস ও ফিকহের পাঠদান করতেন। তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও গভীর। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত শিক্ষক কেবল তথ্য দেন না, বরং ছাত্রের মনন ও চরিত্র গঠন করেন। এ কারণেই তাঁকে শিক্ষকদের শিক্ষক বলা হয়।

মৃত্যু

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ৮৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—কীভাবে কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠতা একজন মানুষকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারে। হাদিসশাস্ত্রের শুদ্ধতা রক্ষায় তাঁর অবদান কিয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে।

মাহরাম কারা, নারী-পুরুষের মাহরাম কয়জন?

দুই সেজদার মাঝে যে দোয়া পড়বেন

মাথাব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন

অহেতুক সন্দেহ ও কুধারণা থেকে বাঁচার ৫ উপায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলুম কী, ইসলামে এর পরিণতি কত ভয়াবহ?

বৃষ্টিতে ভিজলে কি অজু হয়ে যায়?

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ কখন পড়তে হয়, অর্থ কী

বিনয় ও নম্রতা মুমিনের অপরিহার্য গুণ