হোম > ইসলাম

দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

ইসলাম ডেস্ক 

দোয়া কুনুত। ছবি: সংগৃহীত

দোয়া কুনুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় আমল। কুনুত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নীরবতা, বিনয়, ইবাদত বা দাঁড়ানো। পরিভাষায়, নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে বিশেষ কোনো প্রার্থনা বা মোনাজাত করাকে দোয়া কুনুত বলা হয়। যদিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিটি রুকনই অত্যন্ত মূল্যবান, তবে বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের আমলটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম

বিতর নামাজ সাধারণত তিন রাকাত হয়ে থাকে। এই নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা বা আয়াতাংশ মিলাতে হয়। কিরাত শেষ করে রুকুতে যাওয়ার আগে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলে হাত পুনরায় কান পর্যন্ত উঠিয়ে বেঁধে নিতে হয় এবং এরপর দোয়া কুনুত পাঠ করতে হয়। দোয়া কুনুত পাঠ শেষ হলে এরপর রুকু ও সিজদার মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করতে হয়।

দোয়া কুনুত

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

দোয়া কুনুতের বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়ানুমিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাক ফুরুকা, ওয়ানাখলাউ ওয়ানাত রুকু মাইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানাবুদু ওয়ালাকা নুসল্লি, ওয়ানাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসআ; ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক।

দোয়া কুনুতের অর্থ

হে আল্লাহ, আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ইমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ, আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদা করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আজাবকে ভয় করি। আর তোমার আজাব তো কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত।

দোয়া কুনুত কখন পড়তে হয়

দোয়া কুনুত রুকুর আগে না পরে—এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও হানাফি মাজহাব ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি রুকুর আগেই পাঠ করতে হয়। এ নিয়ে দুটি বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো—

  • ১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা: তিনি এক রাতে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। নবীজি শয্যাত্যাগ করে নামাজে দাঁড়ালেন। বিতর নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পাঠ করলেন। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগেই তিনি দোয়া কুনুত পাঠ করলেন। (কিতাবুল হুজ্জাহ: ১/২০১, নাসবুর রায়াহ: ২/১২৪)
  • ২. হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা: হজরত আসিমুল আহওয়াল (রহ.) যখন হজরত আনাস (রা.)-কে নামাজে দোয়া কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন যে, দোয়া কুনুত পড়তে হবে রুকুর আগে। যখন তাঁকে জানানো হলো যে কেউ কেউ রুকুর পরে পড়ার কথা বলছে, তখন তিনি তা সংশোধন করে দিয়ে বললেন, ‘নবীজি (সা.) রুকুর পরে কুনুত (কুনুতে নাজিলা) পড়েছেন মাত্র এক মাস, যা ছিল বিশেষ প্রেক্ষাপটে। সাধারণ অবস্থায় বিতর নামাজে কুনুত রুকুর আগেই পড়তে হয়।’ (সহিহ্ বুখারি: ৩৭৯৬)

বিতর নামাজ কী, কখন আদায় করতে হয়?

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নামাজ হলো বিতর। বিতর শব্দের অর্থ হলো বিজোড়। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগপর্যন্ত এই নামাজ আদায়ের সময়। যারা নিয়মিত শেষ রাতে বা তাহাজ্জুদে উঠতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য রাতের শেষ ভাগে বিতর পড়া উত্তম। তবে শেষ রাতে জাগার সম্ভাবনা কম থাকলে ঘুমানোর আগেই এশার নামাজের পর তা আদায় করে নেওয়া উচিত।

সুরা নাস: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, সহজ ব্যাখ্যা ও ফজিলত

অহংকারের কুফল ও অহংকারীর ভয়াবহ পরিণতি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

শবে মিরাজের বিশেষ নামাজ আছে কি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

জুমার নামাজ কত রাকাত, আদায়ের পদ্ধতি কী

শবে মিরাজ: ঊর্ধ্বাকাশে নবীজি (সা.)-এর অলৌকিক যাত্রা

শাবান মাস: ইবাদতের সুবাতাসে রমজানের প্রস্তুতি