হোম > ইসলাম

জুমার প্রস্তুতি শুরু হোক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই

কাউসার লাবীব

জুমা। ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ততা, নানা চাহিদা আর ক্লান্তির পর মুসলিম জীবনের এক বিশেষ অবলম্বন হলো জুমার দিন। এটি শুধু একটি সপ্তাহান্ত নয়—বরং তা ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অপূর্ব সুযোগ। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন সপ্তাহের সেরা দিন। জুমাবারের গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)

এ ছাড়া এই দিনের রয়েছে আলাদা মর্যাদা ও ফজিলত। তাই শুধু জুমার নামাজ আদায় করলেই নয়, বরং যথাযথ প্রস্তুতি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালনের মাধ্যমেই এ দিনের পূর্ণ কল্যাণ লাভ সম্ভব।

জুমার দিনের বেশ ফজিলতপূর্ণ কিছু আমল রয়েছে। যেমন—

  • ১. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা।
  • ২. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
  • ৩. দোয়ায় মশগুল হওয়া।
  • ৪. দান-সদকা করা।

এই আমলগুলো বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর থেকেই শুরু করা যায়। কারণ, বৃহস্পতিবার দিন শেষে সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত হলো ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জুমার দিন। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর থেকে জুমার দিন শুরু হয়ে যায়। কেননা, ইসলামি পঞ্জিকায় রাত আগে আসে। দিন আসে পরে।

তাই জুমাবার দিনের বেলায় কেউ ব্যস্ততা বা কোনো কারণে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের সুযোগ করতে না পারলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করলে তা জুমার দিনে পড়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।

পাশাপাশি জুমার প্রস্তুতিও রাত থেকেই শুরু হতে পারে। রাতে আগে আগে ঘুমিয়ে যাওয়া, জুমায় যাওয়ার পোশাক প্রস্তুত করে রাখাসহ যেসব কাজ আগেই সেরে ফেলা যায়—তা সেরে ফেললেই ভালো। জুমার মূল প্রস্তুতি শুরু হবে জুমার দিন সকাল থেকে। নবী করিম (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জুমার নামাজের প্রস্তুতি বিষয়ে যা জানা যায়, তা তুলে ধরা হলো—

১. জুমার নামাজের প্রস্তুতি মেসওয়াক করার মাধ্যমে শুরু হতে পারে। আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করতেন। নবীজি বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্য যদি কঠিন না মনে করতাম—তাহলে প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।’ (সহিহ্ বুখারি)

২. জুমার নামাজে যাওয়ার জন্য এ দিন একটু আগে আগে মিসওয়াক করে অজু করে গোসল সেরে নেওয়া উচিত। জুমার দিন গোসল করা সুন্নত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ জুমার নামাজে এলে সে যেন গোসল করে আসে।’ (সহিহ্ বুখারি)

৩. গোসল শেষে জুমার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তেল মাখা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। (সহিহ্ বুখারি)

৪. জুমার নামাজে যাওয়ার সময় সাধ্য অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ভালো পোশাক পরা উত্তম। (সহিহ্ বুখারি)

৫. প্রস্তুতি শেষে জুমার দিন আগেভাগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া উচিত। কেননা, এতে রয়েছে বিশেষ নেকি পাওয়ার সম্ভাবনা।

মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতারা জুমার দিনে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে আগন্তুকদের নাম লেখেন। সবার আগে যে আসে, তার নামে একটি উট সদকা করার সওয়াব লেখা হয়। তারপর যে আসে ওই ব্যক্তির আমলনামায় একটি গাভি, তারপর আগমনকারীর নামে একটি মুরগি, তারপর আগমনকারীর নামে একটি ডিম সদকা করার সওয়াব লেখা হয়। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে আসেন—তখন ফেরেশতারা আমল লেখার খাতা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনেন।’ (সহিহ্ বুখারি: ৮৮২)

৬. পায়ে হেঁটে জুমার নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার মধ্যে রয়েছে বিশেষ সওয়াব। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন যে গোসল করে জুমার সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে যাবে, যাওয়ার সময় কোনো বাহনে চড়বে না—হেঁটে যাবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কাজকর্ম করবে না—সে মসজিদে আসার প্রতিটি কদমে এক বছর নফল রোজা রাখা ও এক বছর নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব পাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৪৫, জামে তিরমিজি: ৪৫৬)

৭. মসজিদে যাওয়ার পর মনোযোগ দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনা উচিত। নবী করিম (সা.) এমনটিই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুমার দিনে যে ব্যক্তি মাথা ও শরীর ধুয়ে ভালোভাবে গোসল করে জুমার সময়ের প্রথম সময়েই কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটে মসজিদে যায় এবং ইমামের কাছাকাছি বসে, নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনে, কোনো অনর্থক কাজ না করে—তার প্রত্যেক কদমে এক বছর আমল করার সওয়াব হবে।’ (সুনানে নাসায়ি: ১৩৮৪)

এককথায় জুমার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো হলো—

  • ১. মিসওয়াক করা।
  • ২. অজু করা।
  • ৩. গোসল করা।
  • ৪. তেল ও সুগন্ধি লাগানো।
  • ৫. উত্তম পোশাক পরা।
  • ৬. আগে আগে মসজিদে যাওয়া।
  • ৭. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
  • ৮. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা।

এভাবে প্রস্তুতি নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করলে এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত হওয়া সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করল, নিজের সাধ্যমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা করল, তারপর তেল ও সুগন্ধ ব্যবহার করল, অতঃপর দ্বিপ্রহরের পর মসজিদে গিয়ে এভাবে বসল—দুজন লোককে পরস্পর বিচ্ছিন্ন করেনি অর্থাৎ দুজনের মাঝখানে জোর করে প্রবেশ করেনি। তারপর সে তার ওপর নির্ধারিত নামাজ আদায় করল, ইমাম যখন (মিম্বারের দিকে) বের হলো, তখন সে চুপচাপ (বসে খুতবা শুনতে) থাকল, তা হলে সে এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত যত পাপ করেছে, ওই সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ্ বুখারি)

জুমা মানেই শুধুমাত্র মসজিদে যাওয়া নয়, বরং এ দিনটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের দিন। ছোট ছোট কিছু প্রস্তুতি ও আমলের মাধ্যমে এ দিনের ফজিলতকে অর্জন করা যায়। সঠিকভাবে গোসল, পরিচ্ছন্নতা, খুশবু, আগেভাগে যাওয়া, খুতবা শোনা এবং দরুদ-দোয়া—এসবই আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার মর্যাদা অনুধাবন করে যথাযথভাবে পালন করার তৌফিক দিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬

পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি

সুরা ফালাকের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, ব্যাখ্যা ও ফজিলত

কালিমা তাইয়্যেবার বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

শবে বরাত ২০২৬: জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

২০২৬ সালের রমজান কবে শুরু?

সুরা নাস: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, সহজ ব্যাখ্যা ও ফজিলত

দোয়া কুনুতের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও পড়ার নিয়ম

অহংকারের কুফল ও অহংকারীর ভয়াবহ পরিণতি