সন্তানসন্ততি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি এক অমূল্য উপহার। পবিত্র কোরআনে সন্তানকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সম্পদ ও সন্তানাদি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য।’ (সুরা কাহাফ: ৪৬)। সন্তান শুধু উপহার নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আমানত, যার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে কিয়ামতের দিন পিতামাতাকে জবাবদিহি করতে হবে।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই তার প্রতি পিতামাতার বেশ কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:
সন্তানের চরিত্র গঠনে পিতামাতার শিক্ষা-দীক্ষাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানকে দেওয়া পিতার সর্বোত্তম উপহার হলো শিষ্টাচার।’ (জামে তিরমিজি)।
সন্তানের প্রতি কঠোরতা নয়, বরং মমতা প্রদর্শন ইসলামের শিক্ষা। রাসুল (সা.) শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন এবং কোলে নিয়ে দোয়া করতেন।
সন্তানকে পরনির্ভরশীল করে রেখে যাওয়া অনুচিত। তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
পিতামাতার দোয়া সন্তানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে সন্তানদের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শেখানো হয়েছে।
দোয়াটি হলো: ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিইয়াতিনা কুররাতা আইয়ুনিও ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু, আমাদের চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ও সন্তান দান করুন এবং আমাদের আল্লাহভীরু মানুষের নেতা নির্বাচিত করুন।’ (সুরা ফুরকান: ৭৪)
মানুষ মারা যাওয়ার পর তার সব আমল বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি আমল জারি থাকে। যার একটি হলো সুসন্তানের দোয়া। সন্তান যদি দ্বীনদার হয়, তবে তার প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব কবরে শুয়ে পিতামাতাও পেতে থাকবেন।
সন্তানকে কেবল বৈষয়িক শিক্ষায় বড় করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা এবং জান্নাতের উপযোগী করে গড়ে তোলাও পিতামাতার কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)