জাকাত ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি আর্থিক ইবাদত। দ্বিতীয় হিজরিতে ফরজ হওয়া এই বিধানটি কেবল সম্পদশালীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ প্রযোজ্য। পবিত্র কোরআনে নামাজের পরেই সবচেয়ে বেশি—মোট ৩২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কারও কাছে জীবনযাত্রার অপরিহার্য প্রয়োজন পূরণ ও ঋণমুক্ত হওয়ার পর সাড়ে ৭ তোলা (৯৫.৭৪৮ গ্রাম) সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা (৬৭০.২৪ গ্রাম) রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার পণ্য থাকলে এবং তা হিজরি এক বছর স্থায়ী হলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। বর্তমান যুগে মুদ্রা ও পণ্যের নিসাব নির্ধারণে রুপাকেই পরিমাপক ধরা শরিয়তের নির্দেশ। এ ক্ষেত্রে মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত দেওয়া আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা নিজেই পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত বণ্টনের ৮টি খাত সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন:
১. ফকির: যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ বা প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য নেই। ২. মিসকিন: যার কিছুই নেই, এমনকি এক বেলার খাবারও নেই। ৩. আমেলিন: জাকাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বণ্টনে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী। ৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব: দ্বীনের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মুসলিম বা আগ্রহী অমুসলিম (বর্তমানে এটি প্রযোজ্য নয়)। ৫. মুক্তিকামী দাস/বন্দী: দাসত্ব বা অন্যায় বন্দিদশা থেকে মুক্তির জন্য। ৬. ঋণগ্রস্ত: যার ঋণ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত সম্পদ নেই। ৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ): সম্বলহীন মুজাহিদ, দ্বীনি শিক্ষায় নিয়োজিত অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও আলেম। ৮. মুসাফির: সফর অবস্থায় অর্থকষ্টে নিপতিত ব্যক্তি।
জাকাত আদায়ের পূর্বশর্ত হলো উপযুক্ত গরিবকে বিনা স্বার্থে ও বিনা শর্তে টাকার সম্পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া। জাকাত আদায়ে অবহেলা করলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, জমাকৃত সোনা-রুপা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে অবহেলাকারীর কপাল, পিঠ ও পার্শ্বদেশে সেঁক দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সঠিক নিয়মে জাকাত আদায় করলে সম্পদ পরিশুদ্ধ হয় এবং মহান আল্লাহ তা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন।