মুমিন জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখ, অর্জন এবং আনন্দের মুহূর্তজুড়ে রয়েছে একটি শব্দ—আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। পবিত্র কোরআনের শুরুই হয়েছে এই মহিমান্বিত শব্দ দিয়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যটিকে সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আলহামদুলিল্লাহ অর্থ হলো সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘(হে নবী) বলুন, সব প্রশংসা আল্লাহর; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।’ (সুরা লুকমান: ২৫)
মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা শুনতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। তাই তিনি আমাদের আলহামদুলিল্লাহ বলার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি বান্দা ও স্রষ্টার মাঝে কৃতজ্ঞতার এক নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করে। যেকোনো সুসংবাদ বা আনন্দের খবর শুনলে আলহামদুলিল্লাহ বলা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। আর মানুষ যখন ছোট-বড় সব নিয়ামতের জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলে মহান রবের প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রতি খুশি হন এবং নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন।
বিশুদ্ধ হাদিসে আলহামদুলিল্লাহর বেশ কিছু বিস্ময়কর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাশরের ময়দানে মানুষের আমল মাপার যন্ত্র বা মিজান পূর্ণ করে দেবে এই একটি শব্দ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমলের পাল্লাকে (মিজান) পূর্ণ করে দেয়। আর ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানকে সওয়াব দিয়ে পূর্ণ করে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম)
ইবনে মাজাহ শরিফের এক হাদিসে এসেছে, কোনো উম্মতকে যদি পুরো পৃথিবীও দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে যদি একবার আলহামদুলিল্লাহ বলে, তবে এই একটি শব্দ পুরো পৃথিবী ও তার ভেতরকার সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান। কারণ দুনিয়া ধ্বংসশীল, কিন্তু এই জিকিরের সওয়াব চিরস্থায়ী।
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় চারটি শব্দের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ অন্যতম। সেগুলো হলো—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। (সহিহ মুসলিম)