নিজের শক্তি, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক দাপটের কারণে কোনো মানুষ হেদায়াত লাভ করতে পারে না। হেদায়াত সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা স্বীয় ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন।
মানুষের হেদায়াত প্রাপ্তি যে শুধু আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনের বর্ণনায়। স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘(হে রাসুল) আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়াত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাকে হেদায়াতের পথে আনয়ন করেন। কারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে, সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত।’ (সুরা কাসাস: ৫৬)
হেদায়াতের ওপর অটল থাকার দোয়া: হেদায়াত পাওয়ার পর তা থেকে বিচ্যুত হওয়া বা দ্বীন থেকে সরে যাওয়া একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে হেদায়াতের ওপর অটল থাকার জন্য বিশেষ কিছু দোয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমাদের উচিত প্রতিনিয়ত এই দোয়াগুলো পাঠ করা:
১. ‘রাব্বানা লা তুজিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক, সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।’ (সুরা আলে ইমরান: ৮)
২. নবী করিম (সা.) একটি দোয়া খুব বেশি পড়তেন। আম্মাজান হজরত উম্মে সালমা (রা.) নবীজিকে এই দোয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘মানুষের অন্তরগুলো আল্লাহ তাআলার দুই আঙুলের মাঝে আছে, যাকে ইচ্ছা তিনি দ্বীনের ওপর অবিচল রাখেন, আর যাকে ইচ্ছা সরিয়ে দেন।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫২২)
দোয়াটি হলো: ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি সাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।’
অর্থ: ‘হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।’
হেদায়াত আল্লাহর এক মহা নেয়ামত। এই নেয়ামত ধরে রাখতে হলে ইবাদতের পাশাপাশি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর মনোনীত পথের ওপর মৃত্যু পর্যন্ত অটল থাকার তাওফিক দান করুন।