হোম > ইসলাম

রিজিক নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে

ইসলাম ডেস্ক 

কোরআন শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

মানবজীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম হলো ‘রিজিক’। ভবিষ্যতে কী হবে, কীভাবে সংসার চলবে—এই ভয় অনেক সময় আমাদের অস্থির করে তোলে। তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রিজিকের ব্যাপারে বারবার অভয় দিয়েছেন এবং মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

রিজিক ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতি

কোরআন মাজিদের ঘোষণা অনুযায়ী, পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রতিটি জীবের রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর। তিনি ইরশাদ করেন, ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো জীব নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ (সুরা হুদ: ৬)

আল্লাহ আমাদের অভয় দিয়ে জানিয়েছেন যে, রিজিক আকাশ থেকে নির্ধারিত হয়। সুরা জারিয়াতের ২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।’ অর্থাৎ মানুষের জন্য যা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা সঠিক সময়ে তার কাছে পৌঁছাবেই।

রিজিক কেন সবার জন্য সমান নয়

  • রিজিক সমভাবে বণ্টন না হওয়ার পেছনে আল্লাহর বিশেষ প্রজ্ঞা ও হিকমত রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে:
  • বিপর্যয় রোধ: ‘যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে প্রচুর রিজিক দিতেন, তাহলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা, সেই পরিমাণ অবতীর্ণ করেন।’ (সুরা শুরা: ২৭)
  • পরীক্ষা: আল্লাহ কাউকে সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কাউকে অভাব দিয়ে। সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ভয়, অনাহার এবং জানমালের ক্ষতির মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করবেন এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেবেন।’

প্রচেষ্টা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

ইসলাম কর্মবিমুখতাকে সমর্থন করে না। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা জমিনের দিগ্‌বিদিক বিচরণ করো এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো।’ (সুরা মুলক: ১৫)। অর্থাৎ নামাজ শেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ বা রিজিক তালাশ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

রিজিক মানে কেবল খাদ্য বা টাকাপয়সা নয়, নেককার সন্তান, সুস্থতা, ইলম ও ইমান—সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর নানা মাধ্যম অছিলামাত্র, মূল রিজিকদাতা মহান আল্লাহ। তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে হালাল পথে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেই জীবনে বরকত ও প্রশান্তি লাভ সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভাষায়, ‘কেউ তার নির্ধারিত রিজিক পরিপূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।’ তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই ইমানের দাবি।

রিজিক বৃদ্ধির ৭ উপায়

কেবল ঘরে বসে থাকলেই রিজিক আসে না, এর জন্য প্রচেষ্টার পাশাপাশি কিছু বিশেষ আমলের কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

  • ১. তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল: ‘যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাদের অভাবনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন।’ (সুরা তালাক: ২-৩)
  • ২. তওবা ও ইস্তিগফার: সুরা নুহের ১০-১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে সমৃদ্ধি দান করেন।’
  • ৩. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
  • ৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা: আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে জীবিকা বাড়ে।
  • ৫. সদকা ও ব্যয়: আল্লাহর পথে ব্যয় করলে তিনি তার বিনিময় বাড়িয়ে দেন।
  • ৬. নামাজ ও ইবাদত: পরিবারকে নামাজের আদেশ দেওয়া এবং ইবাদতে অবিচল থাকা রিজিক প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম।
  • ৭. বিয়ে করা: অভাবী হলেও বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সচ্ছলতা দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। (সুরা নুর: ৩২)।

প্রতিকূলতার মধ্যেও ভরসা করুন আল্লাহর ওপর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কথা বলার ১০ আদব

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুজবের বিরুদ্ধে ইসলামের সতর্কতা

মক্কা-মদিনায় যেভাবে কাটাবেন হজ-পূর্ববর্তী দিনগুলো

দোয়া কুনুত ভুলে গেলে বা না পারলে করণীয়

১৬০ বছরের পুরোনো মারালের কাঠের মসজিদ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের চোখে ক্ষমতা ও জবাবদিহি