মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নিয়ামতে ধন্য করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে ‘অক্সিজেন’ এমন এক অমূল্য দান, যা প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জীবনকে সচল রাখে। মানুষ খাদ্য ছাড়া কয়েক সপ্তাহ বা পানি ছাড়া কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারলেও, অক্সিজেন ছাড়া মাত্র কয়েক মিনিটের বেশি বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। অথচ এই জীবনরক্ষাকারী উপাদান মহান আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দান করেছেন। তাই অক্সিজেন নিঃসন্দেহে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিয়ামতের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘অতএব, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ (সুরা রহমান: ১৩)
আমরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজারবার শ্বাস গ্রহণ করি। কিন্তু খুব কম মানুষই এই সুমহান নিয়ামতের জন্য সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করি। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন রয়েছে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করেন। উদ্ভিদ ও বনভূমি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং পরিবেশ থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই গাছপালা কেবল প্রকৃতির শোভা নয়; মানবজীবনের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তাই পরিবেশ রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃক্ষরোপণকে সাদকায়ে জারিয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী আহার করে—তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি: ২৩২০, সহিহ মুসলিম: ১৫৫২)
আজ বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ, বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির চরম সংকটের সময় অক্সিজেনের সিলিন্ডারের হাহাকার বিশ্ববাসীকে প্র্যাকটিক্যালি শিখিয়েছে—বিনা মূল্যে পাওয়া আল্লাহর এই নিয়ামতের মূল্য কত অপরিসীম!
তাই পরিবেশ রক্ষা করা, অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কেবল সামাজিক বা নাগরিক দায়িত্ব নয়; ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত।