হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাস্তবে তার প্রভাব হবে অত্যন্ত নগণ্য। প্রখ্যাত শিপিং বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেনের মতে, এই অবরোধ শুধু হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা সামগ্রিক বিশ্ববাণিজ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
ভেসপুচি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী লার্স জেনসেন বলেন, বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে এমনিতেই খুব কমসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই এই অবরোধ কার্যকর করে, তবে তা শুধু গুটিকয়েক জাহাজের চলাচল বন্ধ করবে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি আসলে কিছুই পরিবর্তন করবে না।
ইরানকে ‘টোল’ বা মাশুল প্রদানকারী জাহাজের নিরাপদ পথ বন্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, সেটিকেও খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না জেনসেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো কোম্পানি যদি ইরানকে অর্থ দিয়ে থাকে, তবে সেই কোম্পানি আগে থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি নতুন কোনো সংকট তৈরি করবে না।
জেনসেন বলেন, বর্তমানে খুব কম জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করছে। এর মধ্যে ইরানকে টোল দিচ্ছে এমন জাহাজের সংখ্যা আরও নগণ্য। আর যারা টোল দিচ্ছে, তারা ইতিমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। জেনসেন বলেন, সবাই একটি স্থায়ী বা টেকসই শান্তিচুক্তির অপেক্ষায় আছে। যদি পরিস্থিতি শান্ত হয়, তবেই খুব ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
কখন এই জলপথ পুনরায় নিরাপদ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনসেন বলেন, শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছেও এর কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে বিশ্বাসের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কোনো চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, সেই বিশ্বাস অর্জন করা জরুরি। আর বিষয়টি সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক, এখানে কোনো দৃশ্যমান বা স্পর্শযোগ্য নিশ্চয়তা নেই।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা না হওয়ায় রণংদেহী মূর্তি ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়া প্রতিটি জাহাজকে বাধা দেবে। এই অবরোধ খুব শিগগির শুরু হবে।
বিশেষত, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, মার্কিন নৌবাহিনী সেগুলোকে আটক করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, যারা অবৈধভাবে টোল দেবে, সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ পথ থাকবে না।