হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ট্রাম্পের ডিপফেক মিমগুলো স্রেফ তামাশা নাকি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

কখনো যিশুখ্রিষ্ট, কখনো পোপ, আবার কখনো রকি বালবোয়া—ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি বিচিত্র সব ‘ডিপফেক’ বা এআই-জেনারেটেড মিম এখন মার্কিন রাজনীতির ডিজিটাল ময়দান দখল করে নিয়েছে। প্রথম দেখায় এগুলোকে নিছক রসিকতা বা সস্তা বিনোদন মনে হতে পারে, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও গভীর যোগাযোগ কৌশল।

ট্রাম্পকে নিয়ে ইন্টারনেটে ভেসে বেড়ানো ছবিগুলোতে তাঁকে নানা চরিত্রে দেখা যায়। যেমন; কখনো তিনি হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা অ্যাপোক্যালিপস নাউয়ের কমান্ডো, স্টার ওয়ার্সের ডার্থ ভেডারের মতো লাল লাইটসেবার (একধরনের অস্ত্র) হাতে যোদ্ধা কিংবা অলিম্পিক হকিতে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া এক তুখোড় খেলোয়াড়।

কখনো তিনি প্রার্থনারত অবস্থায় যিশুর পাশে, আবার কখনো তিনিই যিশু কিংবা আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বাক্ষর করছেন সংবিধানে। একটি ছবিতে তাঁকে মার্কার কলমের বদলে পালকের কলম দিয়ে লিখতে দেখা যায়। ছবিটি মানুষের হাসির খোরাকও জুগিয়েছে।

কিছু ছবিতে তিনি বিরোধীদের ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন। যেমন; ‘নো কিং’ র‍্যালিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘কিং ট্রাম্প’ যুদ্ধবিমান থেকে মলমূত্র নিক্ষেপ করছেন পাইলট, যেখানে ট্রাম্পকেই পাইলট হিসেবে দেখানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট লাফায়েটে অবস্থিত পারডু ইউনিভার্সিটির গবেষক কাইলিন জ্যাকসন শিফের মতে, এ ধরনের কৃত্রিম কনটেন্ট বা ‘সিনথেটিক কনটেন্ট’-কে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১. ডার্কফেক: এগুলো শত্রুপক্ষকে ছোট করতে তৈরি করা বাস্তবধর্মী জাল ছবি বা ভিডিও। যেমন; টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোকে দিয়ে তাঁর পুরোনো টুইট পড়ানোর একটি ভিডিও বানানো হয়েছিল।

২. গ্লোফেক: কোনো ব্যক্তিকে বাস্তবে যা, তারচেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল বা মহিমান্বিত করে দেখানোর ইতিবাচক ছবি।

৩. ফোফেক: যা দেখলেই বোঝা যায় আসল নয়, কিন্তু এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ বা ট্রল করা।

৪. ফ্যানফেক: ট্রাম্পকে সুপারম্যান বা দেবতুল্য হিসেবে তুলে ধরা, যা সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এগুলোর নেপথ্যে কারা

এই ছবিগুলো সব সময় হোয়াইট হাউস সরাসরি তৈরি করে না। তবে ট্রাম্পের কিছু কট্টর সমর্থক প্রায় এসব কাজ করে থাকেন। এর মধ্যে একজন নিক অ্যাডামস। যিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে কর্মরত। তিনিই মূলত ট্রাম্পের ‘ফ্যানফেক’ ছড়িয়ে দেন। ট্রাম্পের সঙ্গে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বা আব্রাহাম লিংকনের আত্মার প্রার্থনারত ছবিও তিনি শেয়ার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও মস্তিষ্কের দখল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক টেলর লরেঞ্জ এবং গবেষক এইডান ওয়াকার ট্রাম্পকে এই ময়দানের ‘মাস্টার’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, মিম হলো সরাসরি কোনো মত না চাপিয়ে মানুষের মগজে নির্দিষ্ট ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়ার এক দৃশ্যমান পদ্ধতি। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিলবোর্ড দেখলে মানুষ সরাসরি কেনাকাটা না করলেও তা যেমন মস্তিষ্কে ছাপ ফেলে, এই মিমগুলোও ঠিক তেমন।

ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা লড়াই ও বিতর্ক

ট্রাম্পের এই মিম যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিতে ডেমোক্র্যাটরাও এখন ‘ফোফেক’ ব্যবহার শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ট্রাম্পকে ‘মারি আঁতোয়ানেত’ সাজিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই কৌশলে অনেক সময় বিতর্কও তৈরি হয়। যেমন; ওবামা দম্পতিকে বানর হিসেবে দেখানো বর্ণবাদী ভিডিও বা নিজেকে যিশু হিসেবে উপস্থাপন করা ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টগুলো পরে ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব ডেমোক্র্যাটদের

চুক্তিতে রাজি না হলে আমরা আবার যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্র ও হামাসের মধ্যে সরাসরি বৈঠক, গাজা যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে আলোচনা

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও নৌযানে মার্কিন হামলা, তিনজনের মৃত্যু

৩৪ বছর পর সরাসরি আলোচনায় বসছেন লেবানন ও ইসরায়েলের নেতারা: ট্রাম্প

ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে বিপাকে আরব-আমেরিকানরা

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে: মার্কিন কর্মকর্তা

টাইম-এর ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

ইরানকে অস্ত্র না দিতে সি চিন পিংকে ট্রাম্পের চিঠি

অরুণাচল নিয়ে ফের উত্তপ্ত দিল্লি-বেইজিং