হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে এখনো সেনা অভিযানের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন এলিট বাহিনীর কিছু সদস্য। ছবিটি ২০১৫ সালের। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার পাউন্ড ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনার জন্য সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। এ ধরনের অভিযান হবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এবং মার্কিন সেনাদের কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। তিনি মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন। তবে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এই মূল লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে ভেবে তিনি ধারণাটির প্রতি মোটামুটি উন্মুক্ত অবস্থানে আছেন।

ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে বলেছেন, যাতে যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে তারা এই ইউরেনিয়াম সমর্পণে রাজি হয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করেছেন—ইরান এই উপাদান নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। দর–কষাকষিতে ইরান রাজি না হলে শক্তি প্রয়োগ করে তা দখলের বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর। তবে এখনো যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সর্বাধিনায়ককে সর্বোচ্চ বিকল্পের সুযোগ দিতে প্রস্তুতি নেওয়া পেন্টাগনের দায়িত্ব। এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ এ বিষয়ে পেন্টাগন মন্তব্য করেনি, আর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল রোববার রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে চলতে হবে, না হলে ‘তাদের আর কোনো দেশ থাকবে না।’ ইরানের ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের সেই পারমাণবিক ধুলা দিয়ে দেবে।’

গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালানোর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম ২০ শতাংশ বিভাজ্য উপাদান বা ফিসাইল রয়েছে। এই উপাদান সহজেই ৯০ শতাংশ অস্ত্র মানের ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেন, এই ইউরেনিয়ামের বড় অংশ সম্ভবত তিনটি স্থাপনার মধ্যে দুটি স্থানে রয়েছে—যেগুলোতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল। একটি হলো ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, অন্যটি নাতাঞ্জে সংরক্ষিত মজুত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে এবং তারা নতুন ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তৈরির সক্ষমতাও রাখে।

ট্রাম্প এবং তাঁর কিছু মিত্র ব্যক্তিগত আলোচনায় বলেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক একটি অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান দখল করা সম্ভব। এতে যুদ্ধের সময়সূচি খুব বেশি বাড়বে না এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চান না। তাঁর শীর্ষ সহকারীদের কেউ কেউ চান, তিনি যেন অন্য বিষয়েও মনোযোগ দেন—বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেখানে জরিপ বলছে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তি প্রয়োগ করে ইউরেনিয়াম দখলের যেকোনো উদ্যোগ হবে অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক। এটি ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত সবচেয়ে কঠিন অভিযানের একটি হতে পারে। এমন পদক্ষেপ ইরানের পাল্টা হামলা উসকে দিতে পারে এবং যুদ্ধকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমার অনেক বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

মার্কিন বাহিনীর দলগুলোকে এসব স্থাপনায় পৌঁছাতে হবে, সম্ভবত ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েই। সেখানে পৌঁছে যুদ্ধরত সেনাদের প্রথমে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে হবে, যাতে প্রকৌশলীরা খননযন্ত্র নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে পারেন এবং মাইন বা ফাঁদ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে পারেন।

এই উপাদান সরিয়ে নেওয়ার কাজটি সম্ভবত বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এলিট বিশেষ বাহিনীকে করতে হবে, যারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তেজস্ক্রিয় উপাদান অপসারণে দক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ৪০ থেকে ৫০টি বিশেষ সিলিন্ডারে রাখা আছে, যেগুলো দেখতে স্কুবা ট্যাংকের মতো। এগুলো নিরাপদে পরিবহনের জন্য বিশেষ কন্টেইনারে রাখতে হবে, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এতে কয়েকটি ট্রাক পূর্ণ হয়ে যেতে পারে—বলে জানিয়েছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং ইরানের সঙ্গে সাবেক পারমাণবিক আলোচক রিচার্ড নেফিউ।

যদি কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তাহলে অস্থায়ী একটি ঘাঁটি তৈরি করতে হবে, যাতে সরঞ্জাম আনা এবং পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া যায়। পুরো অভিযান শেষ করতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ‘এটা দ্রুত ঢুকে পড়ে বেরিয়ে আসার মতো কোনো অভিযান নয়।’ তবে যদি ইরান শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই বিপজ্জনক অভিযান এড়াতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশ থেকেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে। ১৯৯৪ সালে কাজাখস্তান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল প্রজেক্ট স্যাফায়ার’ নামের অভিযানে। ১৯৯৮ সালে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসির কাছে একটি রিয়্যাক্টর থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন যৌথভাবে অভিযান চালায়। পরে তা স্কটল্যান্ডের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আমাদের কথা না শুনলে ইরানি নেতাদের জন্য দেশই থাকবে না: ট্রাম্প

আমার সবচাইতে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজপুত্রদের পাঠানো হোক: স্টিভ ব্যানন

খার্গ দ্বীপের দখল ও ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলেরও নিয়ন্ত্রণ চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কড়াকড়ি, যাচাই করা হবে সামাজিক মাধ্যম

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে ভ্যান্স: জরিপ

নো কিংস: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ মিছিল

হোয়াইট হাউসে ফোন করলেই ভেসে উঠছে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ

শিগগির ইরান থেকে সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স