প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। গতকাল সোমবার ক্লিনটন দম্পতির একজন কর্মী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত এল। ধারণা করা হচ্ছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ প্রস্তাব এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি ব্যবস্থা এড়াতেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিল ও হিলারি ক্লিনটন সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এর আগে হাউস ওভারসাইট কমিটি গত সপ্তাহে সুপারিশ করেছিল যে, সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করায় ক্লিনটন দম্পতিকে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ দায়ে অভিযুক্ত করা হোক। ক্লিনটন দম্পতি আগে থেকেই সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও সরাসরি উপস্থিত হতে রাজি ছিলেন না। তাঁদের দাবি ছিল, এই তদন্তটি কেবল রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত লাখ লাখ অভ্যন্তরীণ নথিপত্র প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলো থেকে রাজনীতি, অর্থায়ন, শিক্ষা ও ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিল ক্লিনটন ২০০০ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর বেশ কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াত করেছিলেন। তবে ক্লিনটন বরাবরই জানিয়েছেন, তিনি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কোমার জানিয়েছেন, ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ার শর্তগুলোতে সম্মত হলেও এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘ক্লিনটন দম্পতির কাউন্সিল শর্তাবলীতে রাজি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই শর্তগুলো এখনও অস্পষ্ট এবং তাঁরা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কোনো দিনক্ষণ জানাননি।’
ক্লিনটন দম্পতির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, তাঁরা কমিটির সামনে উপস্থিত হতে উন্মুখ এবং তাঁরা এমন একটি নজির স্থাপন করতে চান যা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
জেফরি এপস্টেইন ২০০৮ সালে যৌনব্যবসার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে ক্লিনটন দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।