হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরান রাজি থাক বা না থাক, আমরা শিগগিরই হরমুজ খুলে ফেলব: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সহায়তা থাকুক বা না থাকু, দেশটি রাজি থাক বা না থাক হরমুজ প্রণালি ‘শিগগিরই’ খুলে যাবে। জলপথটিতে তেহরানের কার্যকর অবরোধ অব্যাহত থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘উপসাগরীয় অঞ্চল উন্মুক্ত করবে’ এবং অন্য দেশগুলোও এতে ‘সাহায্য করতে’ প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সহজ হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এটুকুই বলব: আমরা শিগগিরই সেটি উন্মুক্ত করব।’ ওয়াশিংটন কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট বা প্রতিবন্ধকতা দূর করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত কার্যত কোনো ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা তিনি মেনে নেবেন না।

তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও তারা জাহাজগুলোর নিরাপদে চলাচলের জন্য ফি বা শুল্ক আদায় করার পরিকল্পনা করছে। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ার ফোরস ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যদি এমনটি করে থাকে, তবে আমরা তা হতে দেব না।’

ট্রাম্প জানান, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পারে তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার, আর সেটি হলে প্রণালিটি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ খুলে যাবে। ইরান পারমাণবিক শক্তিধর হতে পারবে না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়—এটাই হচ্ছে মূল বিষয়ের ৯৯ শতাংশ।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রণালিটি খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল চলে আসি...নতুবা তারা কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারবে না।’

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা আগের দিনের পাঁচটির তুলনায় কম।

বাজার বিশ্লেষণী সংস্থাটির মতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু থাকা মাত্র ২২টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে বের হয়েছে, অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, প্রণালিটি অবরুদ্ধ থাকায় ৩২৫টি ট্যাংকারসহ ৬০০-এর বেশি জাহাজ এখনো পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।

যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনার নির্ধারিত শর্তাবলি এবং তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন পর্যন্ত পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে আসছে।

আলোচনার পথে অনিশ্চয়তা

ইরান যুদ্ধের তথ্য নিয়ে বাজি, কর্মীদের সতর্ক করল হোয়াইট হাউস

কেউ বারান্দায় খুন, কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ—নাসার ৯ বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

রণতরি প্রস্তুত আছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধে সেকেন্ডে ১০ হাজার ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন

ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ অর্ধেকের বেশি মার্কিন, বলছে নতুন জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে বাধ্যতামূলক সামরিক নিবন্ধন, স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির পদক্ষেপ

‘দু-একবার দেখা হয়েছিল’, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে মেলানিয়া