দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেষ’ হয়ে গেছে। আজ আবার তিনি বলছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও ইরানের অনুরোধে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান আমাদের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেহরানকে কোনো প্রকার লুকোছাপা ছাড়াই পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণভাবে শেষ!’
এর আগে গত বুধবার (৮ জুন) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আর কার্যকর নেই। একই সঙ্গে তিনি ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা বলেন, ‘ওদের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। ওরা অসুস্থ। খারাপ মানুষ।’
ওই সময় তিনি এটাও বলেছিলেন, ইরানকে যদি এই সংকট থেকে বাঁচতে হয়, তবে তাদেরই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে এবং নতুন কিছু শর্ত মানতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান একটি প্রাথমিক (দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু তার মাত্র কয়েক দিন পরেই (২১ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর কোনোভাবেই বাড়াতে চান না। তবে চুক্তি হলেও গত তিন মাস ধরে পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে বারবার ছোটখাটো সংঘাত ও একে অপরের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত নতুন রূপ নেয়। ইরান পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের মূল ভূখণ্ডের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের পেরিমিটারসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।