মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার বলেছেন, তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না, তাই ইরানের সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে একটি চুক্তি করতেই বেশি আগ্রহী। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপের পথে যাওয়ার চেয়ে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতেই বেশি আগ্রহী। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বরং একটি চুক্তি করতে চাই।, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার অনুরোধ জানানোর পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে ফোন করে বলেছিল—দয়া করে এটা করবেন না। চলুন কথা বলি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা বলে, আমরা কখনো এমন কথা বলিনি। জানেন কী? ভুয়া খবরের লোকজন জানে, তারা এসব বলেছিল। তবে আমরা এখন কথা বলছি। দেখা যাক কী হয়। কিন্তু তারা আমাদের সম্মান করে।’ ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।
তেল ও পেট্রলের দাম প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটলেই তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে এবং এর সঙ্গে পেট্রলের দামও নেমে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দাম কমিয়ে আনছি। আর ইরানের সঙ্গে এই পরিস্থিতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম একেবারে তলানিতে নেমে যাবে, পেট্রলের দামও কমে যাবে।’
গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে পরে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে যায়।
গত মাসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে দাবি করে।