বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর ‘Las Malvinas Son Argentinas’ অর্থাৎ, ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেছেন আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবিকে সামনে এনে প্রদর্শিত এই ব্যানার ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন করে থাকতে পারেন এই দুই খেলোয়াড়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিফার স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক এবং এ ধরনের অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। বুধবার এ বিষয়ে আল জাজিরা ফিফার কাছে মন্তব্য চাইলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে। ব্রিটিশদের কাছে দ্বীপগুলো ফকল্যান্ডস নামে পরিচিত হলেও আর্জেন্টিনাবাসী এগুলোকে মালভিনাস নামে অভিহিত করেন।
এর আগে, ১৯৮২ সালে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সৈন্য এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বিজয়ী হয় এবং এরপর থেকে দ্বীপপুঞ্জের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। সেই যুদ্ধের চার বছর পর ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপে মুখেমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল হয় এবং আর্জেন্টিনায় জয়লাভ করে। এমনকি সে বছর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপও জিতে নেয়।
আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ১৮১৬ সালে স্বাধীনতা লাভের পর তারা স্পেনের কাছ থেকে দ্বীপগুলোর উত্তরাধিকার পায় এবং ১৮৩৩ সালে যুক্তরাজ্য একটি অবৈধ ঔপনিবেশিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ দখল করে।
সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভান্নি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি হাতে তুলে ধরেন এবং গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তা প্রদর্শন করেন। তবে ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ব্যানার ঘিরে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের একটি ম্যাচে তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ইরানি-আমেরিকান সমর্থকেরা ইরানের বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন। তবে সেই ম্যাচগুলো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়।