হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ক্ষমতা ছাড়ার আগে ‘গণক্ষমা’ করবেন ট্রাম্প!

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ক্ষমার ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন কেবল বন্ধু, ঘনিষ্ঠ সহযোগী, নির্বাচনী অনুদানদাতা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর ক্যাপিটলে সহিংস দাঙ্গায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের জন্য।

অভিযোগ উঠছে, এখন তিনি নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য আইনি জবাবদিহি থেকে আগাম রক্ষা করতে আরও বিস্তৃতভাবে ক্ষমা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প একাধিকবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছেন—তিনি তাঁদের ক্ষমা করবেন। এক সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি নাকি বলেছেন, তিনি ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার আগে ‘ওভাল অফিসের ২০০ ফুটের মধ্যে যারা এসেছে, সবাইকে ক্ষমা করে দেবেন’।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, এক পৃথক আলোচনায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ডাইনিং রুমে সহায়কদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভাবছিলেন, প্রশাসনের শেষ দিকে একটি সংবাদ সম্মেলন করে গণক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হবে কি না।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে বিস্তৃত আইনি দায়মুক্তি ভোগ করেন, যা ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ফলে নিশ্চিত হয়েছিল। ওই রায়টি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি ফেডারেল ফৌজদারি মামলার একটির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যা বিচার বিভাগীয় বিশেষ কৌঁসুলির তদন্তে আনা হয়েছিল, যখন তিনি জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির সময় রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বাইরে ছিলেন।

তবে সেই দায়মুক্তি তাঁর সহযোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে আগাম ক্ষমা দিয়ে কার্যত সহযোগীদের ফেডারেল অপরাধের দায় থেকে মুক্ত রাখতে পারেন, বিশেষ করে যদি তাঁরা তাঁর নির্দেশে কাজ করে থাকেন। মার্কিন সংবিধানের একটি ধারা অনুযায়ী এই ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও দণ্ড মওকুফ প্রদান’ করার অধিকার দেয়। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।

এই ব্যবহার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলও খুঁজে পায়। ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনও তাঁর মেয়াদের শেষ দিকে আগাম ক্ষমা প্রদান করেছিলেন। দায়িত্ব ছাড়ার আগে—যা সম্ভবত তাঁর শেষ সরকারি পদক্ষেপ ছিল—বাইডেন তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকে আগাম ক্ষমা করে দেন, যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকেরা রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিলেন তাঁর ভাই জেমস বাইডেন, বোন জামাই সারা বাইডেন, ভাই ফ্র্যাঙ্ক বাইডেন, বোন ভ্যালেরি বাইডেন ওয়েন্স এবং তাঁর স্বামী জন ওয়েন্স।

বাইডেন আরও আগাম ক্ষমা দেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি, জেনারেল মার্ক মিলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সেই সদস্যদের, যারা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গার তদন্তে গঠিত হাউস কমিটিতে কাজ করেছিলেন। এ ছাড়া কমিটির তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়া পুলিশ সদস্য ও কর্মীদেরও ক্ষমার আওতায় আনা হয়।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এই আগাম ক্ষমার প্রতিশ্রুতি আসলে তাঁর রসিকতার অংশ এবং সংবাদপত্রটির ‘এটিকে একটি রসিকতা হিসেবে নেওয়া শিখতে হবে।’ তবে তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমার ক্ষমতা ‘নিরঙ্কুশ’।

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও মাঝেমধ্যে এমন ধারণা প্রকাশ করেছিলেন, তিনি সহকর্মীদের ক্ষমা করবেন। একপর্যায়ে তিনি অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, যদি তাঁরা তাঁর নির্দেশে অবৈধভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দাবি করা থেকে আটকায়, তাহলে তিনি তাঁদের ক্ষমা করবেন। যদিও পরে তিনি এই ধারণা বাস্তবায়ন করেননি এবং তাঁর প্রশাসনের সাবেক সদস্যরা দাবি করেছেন, এসব মন্তব্য তিনি মজার ছলেই করেছিলেন।

এর আগে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গার পর, যা ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর পরাজয় উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য মামলার হাত থেকে বাঁচাতে ‘গণক্ষমা’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেননি। পরবর্তীকালে তিনি নাকি সহায়কদের বলেন, এটি না করার জন্য তিনি অনুতপ্ত ছিলেন।

এরপর, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ক্যাপিটল আক্রমণের সময় দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন দাঙ্গাকারীর জন্য গণক্ষমা ঘোষণা করা।

গত ৪৪৫ দিনে তিনি মোট ১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের জন্য ক্ষমা বা দণ্ড মওকুফ দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই ছিলেন রাজনৈতিক মিত্র, নির্বাচনী অনুদানদাতা বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। এঁদের মধ্যে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের সময় দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন, এমনকি একজন বিনোদন নির্বাহীও আছেন, যাঁকে তিনি অভিযোগ গঠনের মাত্র চার মাস পরেই ক্ষমা দেন, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।

তিনি সাবেক হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকেও পূর্ণ ক্ষমা করে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একসময় তাঁকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সহিংস মাদক পাচার চক্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দু’ বলে উল্লেখ করেছিল। এই ক্ষমা দুই দলের মধ্যেই তীব্র সমালোচনা তৈরি করে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি এটি এমন একটি মামলাও বাতিল করে, যা আগে ট্রাম্পের সাবেক ফৌজদারি আইনজীবী এমিল বোভে পরিচালনা করেছিলেন।

ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়ের খবর প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান রাজি থাক বা না থাক, আমরা শিগগিরই হরমুজ খুলে ফেলব: ট্রাম্প

আলোচনার পথে অনিশ্চয়তা

ইরান যুদ্ধের তথ্য নিয়ে বাজি, কর্মীদের সতর্ক করল হোয়াইট হাউস

কেউ বারান্দায় খুন, কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ—নাসার ৯ বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

রণতরি প্রস্তুত আছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধে সেকেন্ডে ১০ হাজার ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন

ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ অর্ধেকের বেশি মার্কিন, বলছে নতুন জরিপ