হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

এল নিনোর প্রভাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাড়ে চার লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: নিও সায়েন্টিস্ট

রেকর্ড সৃষ্টিকারী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বাড়ায় আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাপপ্রবাহজনিত এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জলবায়ুবিজ্ঞানীরা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিও সায়েন্টিস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এক প্রতিবেদনে ওই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকেরা অতীতে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা যেতে পারেন। এর সঙ্গে গত জুনে বর্তমান এল নিনো শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া সম্ভাব্য মৃত্যুগুলো যোগ করলে মোট সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

রোডিয়াম গ্রুপের গবেষক এমিলি গ্রোভার-কোপেক বলেন, এই পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং আগেভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ নিতে স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

আগামী ছয় মাসে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকবে। কারণ সেখানে এ সময় বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল। তবে এল নিনো উত্তর গোলার্ধের বসন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী হলে ফেব্রুয়ারির পর ওই অঞ্চলেও তাপজনিত মৃত্যুর আরেকটি ঢেউ দেখা দিতে পারে। ভারত ও পাকিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গ্রোভার-কোপেক।

আফ্রিকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। শুধু নাইজেরিয়াতেই আগামী ছয় মাসে অতিরিক্ত ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার, ভারতে ১৬ হাজার এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিশু ও অন্যান্য বয়সের মানুষ।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টোফার ক্যালাহান পূর্বাভাসটিকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, হিসাবটি কেবল তাপজনিত মৃত্যুকে বিবেচনায় নিয়েছে। এল নিনোর কারণে দাবানল, সংক্রামক রোগ ও বন্যার মতো অন্যান্য দুর্যোগ বাড়লে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই পূর্বাভাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা নয়; বরং আগাম প্রস্তুতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নিয়ে কতটা প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব।