মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরকার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘যথেষ্ট ভালো’ মনে হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নিয়ে এসব কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানিরা আলোচনার টেবিলে আসতে চাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য যোগাযোগ করেছে, কিন্তু শর্তগুলো এখনো আমাদের অনুকূলে নয়।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেকোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হতে হবে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ বর্জন। অতীতেও ট্রাম্প এমন দাবি করেছিলেন, যদিও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে কেউ দেখেনি, কোনো কথা বলতে শোনেনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মোজতবার নামে যে বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে, সেটিও তিনি নিজে পাঠ করেননি, বরং অন্য কেউ পড়ে শুনিয়েছেন।
সামরিক ফ্রন্টের বিষয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন প্রায় পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে এটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’
ট্রাম্প সতর্ক করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র অচল করে দিয়েছে। তবে ইরান এখনো স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা মাইন ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে। সেটিও শিগগিরই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। এ ছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।