হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের আস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান খলিলুর রহমানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণ দেন খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যও হলো—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

ভাষণে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। তাই আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যথাযথভাবে স্থান দিতে হবে। তিনি মত দেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।

ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান তিনি।

জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ‘ওইসিডি’ দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে, বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন—আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দেন।

প্রযুক্তির অপব্যবহারে ইসলামভীতি, বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) মানব অগ্রগতির পাশাপাশি সভ্যতার অস্তিত্বের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন।

জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।