ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গত মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে, জাহাজটির প্রপালশন অর্থাৎ, ইঞ্জিনও বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে জাহাজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলগত ত্রুটি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস হিগিন্স এবং এতে থাকা প্রায় ৩০০ ক্রু কার্যত ‘অসহায়’ হয়ে পড়ে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর মতে, জাহাজে থাকা কারও কোনো আঘাত লাগেনি।
মার্কিন সপ্তম নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, হিগিন্স ‘পুরো জাহাজ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার’ মুখে পড়ে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘটেছিল, যা থেকে স্পার্কিং বা ধোঁয়া তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পর তা থেমে যায়।’ কোমার জানান, আর্লি বার্ক শ্রেণির এই ডেস্ট্রয়ারটিতে বিদ্যুৎ ও প্রপালশন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বিদ্যুৎ ও প্রপালশন বন্ধ থাকার ঘটনা ‘কয়েক ঘণ্টা’ স্থায়ী হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা সিএনএনকে বলেন, সমুদ্রে যেকোনো একটি জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা হারানোর জন্য এটি উল্লেখযোগ্য সময়। এতে বিদ্যুৎচালিত রাডার ও যুদ্ধ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার বলেন, ‘জাহাজটি তখন অসহায়, ইলেকট্রনিকভাবে অন্ধ এবং স্থির হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, জরুরি ডিজেল জেনারেটর কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এয়ার কন্ডিশনিং চালাতে সক্ষম।
নৌবাহিনীর বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ঠিক কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। এই এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন জলসীমা থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত এবং উত্তর মেরু থেকে অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। সমস্যার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
হিগিন্সের মতো আরলি বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সারফেস ফ্লিটের প্রধান ভরসা। বর্তমানে এ ধরনের ৭০ টির বেশি জাহাজ সক্রিয় রয়েছে। ১৯৯৯ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হিগিন্সে প্রায় ৩০০ ক্রু রয়েছে এবং এর হোমপোর্ট বা মূল বেস জাপানের ইয়োকোসুক।
৫০৫ ফুট দীর্ঘ এবং ৮ হাজার ২০০ টনের বেশি ওজনের এই জাহাজে এজিস যুদ্ধ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া এতে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ টিউব রয়েছে, যেখান থেকে টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরেকটি জাহাজ, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীর লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। ১২ মার্চের ওই আগুন কোনো যুদ্ধসংক্রান্ত ঘটনা ছিল না বলে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়। এতে দুইজন নাবিক সামান্য আহত হন, তারা চিকিৎসা নেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।