যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাঁকে জানিয়েছে যে তারা এখন ‘ধ্বংসের অবস্থায়’ রয়েছে এবং নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে ইরান ঠিক কীভাবে এই বার্তা দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
দুই মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হবে। পাশাপাশি উপসাগরীয় জলপথে জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত বিরোধও আগে সমাধান করতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেছেন, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালির অবরোধ খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১২৫-১৪০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে। এগুলো আবার জ্বালানি নয়, বরং পণ্যবাহী জাহাজ।
এদিকে মঙ্গলবার সৌদি আরবে উপসাগরীয় নেতারা সরাসরি বৈঠকে বসেন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের মুখে পড়ে এই অঞ্চল। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে; তবু নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েই গেছে।
সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে জ্বালানি মূল্য ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, তারা তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ ও ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও গতি হারিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ, ওমান ও রাশিয়া সফর করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
যুদ্ধ থামাতে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেও রয়েছেন ট্রাম্প। কারণ, তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। অন্যদিকে ইরান ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে—প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ, তারপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং সবশেষে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।