জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ ওয়াকআউট করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পরপরই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নেতারা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি মিশন এই ওয়াকআউটে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের উৎসাহিত করে।
যেসব দেশের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ওয়াকআউট করেছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত এটা করাও হয় না। তবে অধিবেশনকক্ষের ছবি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যেসব দেশের প্রতিনিধিদের আসন খালি দেখা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ, সৌদি আরব, সুদান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আলজেরিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, মন্টেনেগ্রো, কিরগিজস্তান, জর্ডান, লিবিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও মরিশাস।
তবে কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে পুরো প্রতিনিধিদল নয়, একজন প্রতিনিধি সভাকক্ষে থেকে গেলেও অন্য সদস্যরা প্রতিবাদ হিসেবে বেরিয়ে যান।
প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যেতে দেখে নেতানিয়াহু তাঁদের কটাক্ষ করে বলেন, তাঁরা ‘ভণ্ড’। তিনি বলেন, ‘ইরানের শাসকেরা যখন হাজার হাজার নিরস্ত্র ইরানি নাগরিককে হত্যা ও বিকলাঙ্গ করছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? যদি এই হলে এখনো কোনো নীতিবান কাপুরুষ থেকে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে এখনই বেরিয়ে যান।’
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের সময় সভাকক্ষে উপস্থিত তাঁর সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাঁকে উৎসাহ দেন।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ এমন এক সময়ে হলো, যখন গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াকআউটকে অনেক প্রতিনিধি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও তীব্র আক্রমণ করেন। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগে মামদানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁকে ফিলিস্তিনের সাংস্কৃতিক প্রতীক জলপাই গাছ রোপণ করতে ও একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা যায়।
এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘মিস্টার মামদানি, আপনি আমাকে এখানে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আপনি আমাকে চুপ করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনি আমাকে বা সত্যকে কখনোই চাপা দিতে পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল গণহত্যা করেনি; বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘আপনি এবং অন্য ইহুদিবিদ্বেষীরা ইহুদি ও ইহুদি রাষ্ট্র সম্পর্কে যে মিথ্যা ছড়াচ্ছেন, তার ফল ভোগ করতে হবে।’