হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ‘সনিক উইপন’ ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প, বিশেষ অস্ত্রটি যেভাবে কাজ করে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নিউজন্যাশনের ‘কেটি পাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি শক্তিশালী ‘সনিক উইপন’ (শব্দাস্ত্র) ব্যবহার করেছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অস্ত্রটি বিশেষ। এটা আর কারও কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রশংসাও করেন।

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, অভিযানে ব্যবহৃত একটি যন্ত্রের কারণে ভেনেজুয়েলার সেনাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তবমি হয়। এর পর থেকেই ‘সনিক উইপন’ ব্যবহারের গুঞ্জন শুরু হয়।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার প্রচারিত নিউজন্যাশনের ‘কেটি পাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অস্ত্রটি নিয়ে বিস্তারিত এড়িয়ে যান। উপস্থাপক কেটি পাভলিচ যখন জানতে চান, এই অস্ত্রের ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না। উত্তরে ট্রাম্প ভ্রু কুঁচকে বলেন, ‘হ্যাঁ, হওয়াই উচিত।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটা এমন কিছু, যা আমি বলতে চাই না...কারণ আর কারও কাছে এটা নেই। আমাদের এমন অস্ত্র আছে, যেগুলো সম্পর্কে কেউ জানেই না। আমি বলব, এসব নিয়ে না বলাই ভালো।’

এদিকে এই অস্ত্রের প্রকৃতি ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে আরও তথ্য জানার জন্য রাশিয়ার বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সনিক উইপন সাধারণত তীব্র শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে অক্ষম করে দেয়। ছবি: সংগৃহীত

সনিক উইপন কীভাবে কাজ করে

সনিক উইপন বা শব্দাস্ত্র (শব্দবোমাও বলা যায়) সাধারণত তীব্র শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে অক্ষম করে দেয়। কিছু অস্ত্রে সরাসরি যন্ত্রণাদায়ক শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে নির্দিষ্ট (বয়সভিত্তিক শ্রবণক্ষমতা) লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

এ ধরনের অস্ত্রের প্রভাবে মাথাব্যথা, ভারসাম্যহীনতা, বিভ্রান্তি ও স্থায়ী শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিটের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে, তার প্রভাব ছিল আরও ভয়াবহ। তিনি ফক্স নিউজে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা পড়ে শোনান, যিনি নিজেকে মাদুরোর এক দেহরক্ষী বলে দাবি করেন।

ওই প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য—‘একপর্যায়ে তারা কিছু একটা ছোড়ে। কীভাবে বর্ণনা করব জানি না। মনে হচ্ছিল, প্রচণ্ড শব্দতরঙ্গ। হঠাৎ মনে হলো, মাথার ভেতর থেকে বিস্ফোরণ হচ্ছে।’

ওই দেহরক্ষী বলেন, ‘আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। কেউ কেউ রক্তবমি করছিল। আমরা মাটিতে পড়ে যাই, নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। সেই সনিক উইপন বা শব্দাস্ত্র যা-ই হোক—ব্যবহারের পর আমরা দাঁড়াতেও পারিনি।’

তিনি জানান, এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তিনি আগে কখনো হননি।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদুরোর বাসভবনে মার্কিন অভিযানের সময় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এমন তথ্য দিয়েছে। তবে এই হতাহতের মধ্যে সনিক উইপনের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই, তবে বল প্রয়োগ করব না: ট্রাম্প

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ন্যাটোতে মার্কিন অংশগ্রহণ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, লাগবে কয়েক বছর

যদি কিছু ঘটে, ওদের পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলব—কাকে এমন হুমকি দিলেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পিছু হটার সুযোগ নেই, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প

এবার ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে ‘নজর’ ট্রাম্পের, অস্বস্তিতে স্টারমার

গ্রিনল্যান্ড দখলে বল প্রয়োগ করবেন কি না—প্রশ্নে ট্রাম্পের ‘নো কমেন্ট’

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও যৌনব্যবসা, ভারতীয় দম্পতি গ্রেপ্তার

বিক্ষোভে উত্তাল মিনেসোটা: আলাস্কা থেকে ১৫০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি পেন্টাগনের