যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব আজ শুক্রবারই দিতে পারে ইরান। রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রতিক্রিয়ায় কী আছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমরা আশা করছি, এটি এমন কিছু হবে, যা আমাদেরকে একটি গুরুতর আলোচনার প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে পারে।’
রুবিওর এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর ওপর কোনো উসকানি ছাড়াই ইরান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এসব ঘাঁটি থেকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা এবং ৩০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরুর কথা বলা হয়েছে। এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আমাদের অবস্থান চূড়ান্ত হলে পাকিস্তানের সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এখন এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে।