ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা বা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ ডেডলাইন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি চললে আইনের ৬০ দিনের সময়সীমা সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ হয়ে যায়। তবে বিরোধীরা তাঁর এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
গত ২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে ইরান অভিযানের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য। সেই হিসেবে আজ শুক্রবার এই সময়সীমার শেষ দিন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অনুমোদন না নিয়ে উল্টো যুক্তি দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতির কারণে এই সময়সীমা আর কার্যকর নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে শুনানির সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধবিরতিতে আছি। যুদ্ধবিরতির সময় ৬০ দিনের এই সময়সীমা কার্যকর হবে না।’
তবে হেগসেথের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর টিম কেইন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে আইনটি এই ধরনের ব্যাখ্যার সমর্থন করে। আমার মতে, শুক্রবারই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে এবং এটি প্রশাসনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।’
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা কার্যত ‘শেষ’ হয়ে গেছে। এপ্রিলের শুরুর দিক থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর গোলাবর্ষণ করেনি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা বা শান্তিচুক্তি এখনো সম্ভব হয়নি। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দুই মাস ধরে চলা এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্রেটিক সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা চালালেও রিপাবলিকানদের বাধায় বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য পেন্টাগনের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন।
ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান কার্লোস গিমেনেজ বলেন, ‘ইরান ৪৭ বছর ধরে আমাদের ধ্বংস করতে চাইছে। তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের স্বপ্ন রুখে দেওয়ার জন্য এই যুদ্ধ সমর্থনযোগ্য।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এরপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।