হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের সঙ্গে বিচ্ছেদের সূচনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হোয়াইট হাউসে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎজ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এক্স

ইরান ইস্যু নিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মের্ৎসের সঙ্গে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধের জের ধরে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, তখনই পেন্টাগনের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্ত কেবল জার্মানি নয়, বরং সামগ্রিক ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবাদের সূত্রপাত ঘটে চলতি সপ্তাহের শুরুতে যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মের্ৎস এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে মন্তব্য করেন, ইরান পরিস্থিতির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সঠিক ও দূরদর্শী কৌশল নেই। তিনি আরও তীক্ষ্ণ ভাষায় বলেন, তেহরানের ঝানু আলোচকদের কাছে ওয়াশিংটন কার্যত ‘অপদস্থ’ হয়েছে। মের্ৎস প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট থেকে বের হওয়ার কোনো সঠিক ‘স্ট্র্যাটেজিক এক্সিট’ বা কৌশলগত পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক তোপ দাগেন। ট্রাম্প লিখেন, ‘মের্ৎস তাঁর কাজে ভীষণভাবে ব্যর্থ। তিনি মনে করেন ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক। তিনি আসলে কী বলছেন তা তিনি নিজেও জানেন না।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, মের্ৎসের ভুল নীতির কারণেই জার্মানি বর্তমানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিশেষ নির্দেশে এই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ইউরোপে আমাদের সামগ্রিক সামরিক অবস্থানের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সক্রিয় সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার একটি বড় অংশ অবস্থান করছে দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির বিখ্যাত রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে। এই প্রত্যাহার কার্যকর হলে জার্মানিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

এদিকে হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ইতালি এবং স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। তাঁর মূল অভিযোগ হলো, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার মার্কিন অভিযানে এই মিত্র দেশগুলো কোনো সহায়তা করছে না।

ট্রাম্প ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘ইতালি আমাদের কোনো কাজেই আসেনি, আর স্পেন তো ভয়াবহ আচরণ করেছে! প্রতিটি ক্ষেত্রেই বলেছে যে তারা এই ঝামেলায় জড়াতে চায় না। তাহলে আমরা কেন তাদের সুরক্ষায় আমাদের সেনাদের সেখানে রাখব?’

মজার ব্যাপার হলো, অতীতে ট্রাম্প জার্মানিকে ‘ডিফল্টার’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কারণ, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশের নিচে ছিল। তবে বর্তমান মের্ৎস সরকারের অধীনে জার্মানি সামরিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ২০২৭ সাল নাগাদ জার্মানি ১০৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্য নিয়েছে, এটি তাদের জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ালেও ট্রাম্পের সঙ্গে মের্ৎসের ব্যক্তিগত ও কৌশলগত বিরোধ মেটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন আসলে ইউরোপ থেকে মনোযোগ সরিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক (ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়) অঞ্চলের দিকে মার্কিন সামরিক শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করার ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা ওয়াশিংটনের এই অবস্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বার্লিনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি দেয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, এই সিদ্ধান্ত ন্যাটোর ভেতরে এক দীর্ঘস্থায়ী ফাটল তৈরি করতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে দেবে।

ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলা: সিক্রেট সার্ভিস অফিসারকে গুলি করল কে, তথ্যগত অসংগতি নিয়ে রহস্য

ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প, নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়

সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় মাদকাসক্তদের ‘জম্বি দশা’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ইতালি, স্পেন ও জার্মানি থেকে কেন সেনা সরিয়ে নিতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ চিহ্নিত, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ, প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্কে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি ইমাম গ্রেপ্তার

কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বন্ধ হয়েছিল ইঞ্জিনও

এপস্টেইন দ্বীপের রহস্যময় ‘মসজিদ’: পবিত্র কাবার গিলাফ ও কিসওয়া চুরির তথ্য ফাঁস

জিডিপি ছাড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ, ১ ডলার আয়ে খরচ ১.৩৩