যুদ্ধের আগে বা যুদ্ধের সময় ইউক্রেনীয়দের হত্যায় ‘কিল লিস্ট’ তৈরি করেছে রাশিয়া বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি তাঁদের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেছে, তাঁদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ রয়েছে যে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয়দের হত্যা কিংবা বন্দী শিবিরে পাঠাতে একটি তালিকা তৈরি করছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি এই তালিকা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের রুশ বিরুদ্ধবাদীদের চিহ্নিত করাসহ ইউক্রেনের মধ্যে গোয়েন্দা কার্যকলাপ পরিচালনা করে থাকে এফএসবির ফিফথ সার্ভিস।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রুশ কার্যকলাপের বিরোধিতাকারীদের ব্যক্তিদের অনুসরণ করছে তাঁরা। তাঁদের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে তবে দেশটিতে তাঁদের উপস্থিতি বজায় রাখতে প্রতিবাদ-প্রতিরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রাণঘাতী পদক্ষেপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথ্যের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত প্রমাণ সরবরাহ করেনি এবং ক্রেমলিন এই দাবিগুলোকে ‘কাল্পনিক’ ও ‘মিথ্যা’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।
এ দিকে, ইউক্রেন সংকট নিরসনে প্যারিস জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে যে বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছে তার জবাব দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো’ করা হয়েছে।
সোমবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছেন। তবে মস্কো যদি ইউক্রেন আক্রমণ থেকে বিরত থাকে।
এই বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, “এই সময়ে এ ধরনের যেকোনো সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা ‘অপরিপক্ব’ সিদ্ধান্ত। এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বোঝাপড়া হয়েছে এবং সেই স্তরেই সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত।’
পেসকভ বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে এমন শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে ক্রেমলিনের ‘কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা নেই’। ”