হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, হতে পারে দু-এক দিনের মধ্যে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কুয়েতে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণরত কয়েকজন সেনা। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা ইরানের ওপর হামলার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানে পরিকাঠামো গড়ে তুলছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে (পশ্চিমা বিশ্বে শনিবার সপ্তাহ শেষ হয়) হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। একজন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়ে আসছেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরানকে লক্ষ্য করেই এই ভাবনা। গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কী করব, সে বিষয়ে কিছু ধারণা আছে।’ তবে তিনি জানান, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ মুহূর্তে সেটা জানাতেই’ বেশি পছন্দ করেন তিনি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থির।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি হামলা করতেও পারি, না-ও করতে পারি।’ তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে। যুদ্ধের ব্যাপারে ট্রাম্পের এই মনোভাব এক সপ্তাহ আগের অবস্থান থেকে একেবারেই বিপরীত। তখন তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হামলা কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানকে সময় দিচ্ছেন, যাতে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এড়ানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বুধবার সে ধরনের ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে বলেন, তাঁর দেশ এখনো ‘কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ এবং কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি, ভবিষ্যতেও চাইবে না।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরমাণু আলোচনা করতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনে ট্রাম্পের অবস্থানে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে, কারণ তাঁর মিত্ররা তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, ইরান একটি পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার গ্রাহাম বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) কূটনীতিকে সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি মনে করি, ইরান ভুল হিসাব কষেছে। মানবজাতির প্রতি এই হুমকি যত দ্রুত শেষ করা যায়, ততই ভালো।’

মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের উল্লেখ করে গ্রাহাম বলেন, ‘তিনি খুব মনোযোগী, শান্ত এবং তাঁর কথায় তিনি দৃঢ় যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবেন না।’

ট্রাম্প বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারে তিনি আরও একটি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ‘অভিযান চালিয়ে যেতে’ উৎসাহিত করেছেন। তবে এই সময় তিনি বোঝাননি যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় অংশ নেবে।

ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা হবে আজ: পিট হেগসেথ

ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়

ইরান থেকে ট্রাম্পকে বেরিয়ে আসতে পরামর্শ দিচ্ছেন উপদেষ্টারা

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পরই ইরান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের’ ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ইরানে আগ্রাসন ‘ছোট সফর’, খুব শিগগির শেষ: ট্রাম্প

শিক্ষার্থীদের প্র্যাঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইরানি তেলের ডিপোতে হামলার পর ইসরায়েলকে ‘হোয়াট দ্য ফা**’ বার্তা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র

মেয়র মামদানির বাসভবনের সামনে ভয়াবহ বোমা হামলা, স্বীকারোক্তি দিলেন দুই তরুণ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

এপস্টেইনের কথিত আত্মহত্যার আগে কারারক্ষীর ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য প্রকাশ