মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের বিষয়টিকে তিনি কেয়ার করেন না। এই বিষয়ে তিনি ‘একেবারেই’ উদ্বিগ্ন নন। একই সঙ্গে তিনি আবারও হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় মান সময় আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের তথাকথিত প্রচেষ্টাকেই ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই। আপনারা জানেন, যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র রাখা।’ অথচ, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের কাছেই হাজারো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
ইরান যদি ট্রাম্পের ডেডলাইন না মানে, তবে দেশটির কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু হামলার বাইরে থাকবে কি না—হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এর আগে, গতকাল সোমবার ইরান ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, তারা সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায়। কায়রোতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মোজতবা ফেরদৌসী পোর বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘আমরা কেবল তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি মেনে নেব, যখন এমন নিশ্চয়তা থাকবে যে আমাদের ওপর আর হামলা হবে না।’
হোয়াইট হাউসে একই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এক রাতেই পুরো ইরান দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, আর সেই রাতটি হতে পারে আজ মঙ্গলবার (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় মান সময়) দিবাগত রাত। ট্রাম্প বলেন, ‘এক রাতেই পুরো দেশটিকে (ইরান) মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব। এটা আগামীকাল রাতেই হতে পারে।’ এর আগে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায়, গালিগালাজপূর্ণ বার্তায় হুমকি দিয়েছিলেন যে, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় অথবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালাবেন।
এর আগে গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার আগের হুমকির চেয়েও আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প তাঁর হাতে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে না, তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলব না কারণ ওই দুটির চেয়েও ভয়াবহ আরও কিছু বিষয় (বিকল্প) আছে।’
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কাজ করা দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। তিনি একে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে এটি যথেষ্ট নয়, যদিও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।’
ট্রাম্প বলেন, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতি হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারেন। ইরান ইতিমধ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের দশ-দফার জবাবে ‘ইরানের বিবেচনা অনুযায়ী’ যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরান বলেছে, অস্থায়ী বিরতি কেবল শত্রুপক্ষকে পরবর্তী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ করে দেবে।
আলাপকালে ট্রাম্প আবারও ইরানের তেল দখল করার ইচ্ছার কথা জানান, তবে যোগ করেন—মার্কিন নাগরিকেরা তা চায় কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, ‘যদি আমার ইচ্ছামাফিক চলত...আমি কেবল তেলটা নিয়ে নিতে চাইতাম। কিন্তু আমি জানি না মার্কিন জনগণ তা চায় কি না। তারা চায় আমরা ভেতরে যাই, যা করার করি এবং বেরিয়ে আসি।’
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের জনগণকে সুযোগ দেওয়া হলে তারা তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ তখনই পাল্টা লড়াই করবে যখন তারা জানবে যে তাদের গুলি করা হবে না এবং যখন তারা অস্ত্র হাতে পাবে।’
তিনি যোগ করেন, তাঁর দৃষ্টিতে ইরানের জনগণ যদি সশস্ত্র হতো, তবে ‘ইরান দুই সেকেন্ডের মধ্যে হাল ছেড়ে দিত কারণ তারা তা সহ্য করতে পারত না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জনগণ ‘বোমার শব্দ শুনতে চায় কারণ তারা মুক্ত হতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য লড়ছি। আমরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছি। আর আমি আপনাদের বলব, আমাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরানের মানুষ সবচেয়ে বেশি অখুশি তখনই হয়...যখন ওই বোমা পড়া বন্ধ হয়ে যায়।’