হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

১০০ কোটি ডলার দিয়ে ট্রাম্পের গাজা পরিষদে থাকছে যেসব দেশ, ‘না’ বলল যারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বোর্ড অব পিস সনদে স্বাক্ষরের পর হাস্যোজ্জ্বল ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এখন এর পরিধি আরও বাড়িয়ে একে একটি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ট্রাম্পের এই বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদ।

শান্তি পরিষদের সনদ স্বাক্ষরের মূল পর্বে ট্রাম্পের পাশে এসে যোগ দেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ট্রাম্পের কট্টর মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুই নেতা দলিলে সই করার পর করমর্দন করেন এবং ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের পাশে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্য থেকে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও আজারবাইজান এই শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। ইউরোপের নবগঠিত রাষ্ট্র কসোভোও এই সনদে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ট্রাম্পের এই নতুন বৈশ্বিক জোটের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

বার্তা সংস্থা এপি হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, প্রায় ৫০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টির মতো দেশ এই পরিষদে যোগ দিতে পারে।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে ২৫টির বেশি দেশ এই বোর্ডে যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, মিসর ও তুরস্ক। এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান। ইউরোপ ও অন্য মহাদেশ থেকে আছে হাঙ্গেরি, আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, আলবেনিয়া, বেলারুশ, বুলগেরিয়া ও কসোভো।

তবে ইউরোপের বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশ আপাতত ট্রাম্পের এই পরিষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে যুক্তরাজ্য। রাশিয়ার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লন্ডন এই জোটে নেই। অন্যদিকে, ট্রাম্পের একতরফা নীতির বিরোধিতা করে প্যারিস যোগ দেয়নি। এ ছাড়া নরওয়ে, সুইডেন ও স্লোভেনিয়াও এই পরিষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সিদ্ধান্তহীন বা দোটানায় যারা

আমন্ত্রণ পেলেও অনেক দেশ এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি বা ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে দুই বিশ্বশক্তি চীন ও রাশিয়া। এ ছাড়া আরও রয়েছে ভারত ও জার্মানি। কৌশলগত কারণে এই দুই দেশ এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইউক্রেন এবং ইইউর নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশন এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যান্য দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস ও প্যারাগুয়ে এখনো দোটানায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের গাজা শাসনের জন্য প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশগুলোকে এর সদস্যপদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে। এমন শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প নিজে এবং এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতে।

লন্ডনে এক নারীর জীবন বাঁচিয়েছেন ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রস্তুত, ইউরোপের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ‘সনিক উইপন’ ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প, বিশেষ অস্ত্রটি যেভাবে কাজ করে

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই, তবে বল প্রয়োগ করব না: ট্রাম্প

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ন্যাটোতে মার্কিন অংশগ্রহণ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, লাগবে কয়েক বছর

যদি কিছু ঘটে, ওদের পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলব—কাকে এমন হুমকি দিলেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পিছু হটার সুযোগ নেই, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প

এবার ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে ‘নজর’ ট্রাম্পের, অস্বস্তিতে স্টারমার

গ্রিনল্যান্ড দখলে বল প্রয়োগ করবেন কি না—প্রশ্নে ট্রাম্পের ‘নো কমেন্ট’