পাকিস্তানের নৌবাহিনী শিগগিরই উন্নতমানের চীনা সাবমেরিনের একটি বহর পেতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই সাবমেরিনগুলো চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি পাকিস্তানকে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত বছর পাকিস্তান-ভারত সংঘাতে প্রথমবারের মতো এসব যুদ্ধবিমান বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এই বহরে কতগুলো সাবমেরিন থাকবে, সেই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান ও চীন দীর্ঘদিনের মিত্র। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, গত গ্রীষ্মে ভারতের ফরাসি নির্মিত রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার অভিযানে চীনে তৈরি বিমানগুলো তাদের আকাশ হামলার অংশ ছিল।
সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাবমেরিনগুলোর প্রথমটি ‘হাঙ্গর’ নামে কমিশনিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চীনের সানইয়ায়। এতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিতে সাবমেরিনের সংখ্যা বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
তবে পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বহরে মোট আটটি সাবমেরিন থাকবে। এর মধ্যে চারটি চীনে তৈরি করার পর ইসলামাবাদকে সরবরাহ করা হবে, আর বাকি চারটি প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানেই তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের আওতায় এসব সাবমেরিন রপ্তানির সক্ষমতাও আমরা অর্জন করব।’
পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ একে ‘আমাদের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নৌবহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র, উন্নত সেন্সর এবং এয়ার ইনডিপেনডেন্ট প্রপালশন ব্যবস্থায় সজ্জিত। এগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আগ্রাসন প্রতিরোধেও সহায়ক হবে।
সাবমেরিন-সংক্রান্ত এ খবর এসেছে এমন সময়ে, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তান ও ভারত তিনটি যুদ্ধ লড়েছে।