ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা নির্ধারিত শিডিউল অনুসারেই হবে; এমনটি জানিয়েছে পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দলের অগ্রবর্তী সদস্যরা ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়া ও আল হাদাসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
আল হাদাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল অ্যারাবিয়া ও আল হাদাসকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা যথাসময়ে শিডিউল অনুসারেই হবে। এ সময় তিনি নিশ্চিত করেন, আজই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি করে অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বর্ধিত হবে কি না, সেই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’ বিষয়টি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই ক্ষীণ’ এবং কোনো চুক্তি না হলে ইরানে ‘মুহুর্মুহু বোমা’ ফেলা হবে। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের কাছে ‘নতুন তাস’ রয়েছে।
পাকিস্তানি সূত্রটি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকেও অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে ইসলামাবাদ থেকে জানিয়েছেন আল অ্যারাবিয়ার প্রতিনিধি রাশা নাবিল। তিনি জানিয়েছেন, একটি সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান ইরানের পূর্ণ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, তবে বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল।
রাশা নাবিল আরও জানিয়েছেন, তেহরান ইসলামাবাদকে জানিয়েছে, তারা নৌ অবরোধের অবসান চায় এবং কূটনৈতিক পথে কোনো ইতিবাচক ফল না পাওয়ার বিষয়ে তাদের গভীর আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বাস্তব ও কার্যকর সমঝোতা গড়ে তোলার জন্য আন্তরিক এবং অত্যন্ত পেশাদার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেলেও ইরানের তরফ থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকালে কেউই ইসলামাবাদের উদ্দেশে তেহরান ত্যাগ করেনি।