যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে ইরানি প্রতিনিধিদল। এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানি সূত্রগুলো। তারা আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফাও শিগগির শুরু হতে পারে।
একাধিক সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি ছোট আলোচক দল নিয়ে ইসলামাবাদে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যে ফেডারেল রাজধানীতে অবস্থান করছে বলেও তারা জানিয়েছে।
এই অগ্রগতি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আরাঘচি ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ও পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘দুই পক্ষই আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে মতবিনিময় করেছে।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেছেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ধারাবাহিক সংলাপ ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যাতে যত দ্রুত সম্ভব আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার’ প্রশংসা করেন। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।
গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তবে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে—বিশেষ করে, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের বিষয়টি নিয়ে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নাটালি বেকারের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক’ করেন। সেখানে তাঁরা ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে—পারস্পরিক অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, এটা সম্ভব!
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, তবে তা ভেঙেও যায়নি।