ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। করাচির পর লাহোরেও মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি রেঞ্জার্স (আধাসামরিক) মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর আজ রোববার লাহোরের শিমলা হিল এলাকায় মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। আল্লামা সৈয়দ জাওয়াদ নাকভীর নেতৃত্বে শত শত মানুষের একটি মিছিল চারিং ক্রস থেকে কনস্যুলেটের দিকে রওনা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন কনস্যুলেট রক্ষায় চারদিকে শিপিং কন্টেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। নাদরা অফিসের কাছে অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশ ও রেঞ্জার্স তাদের বাধা দেয়। জোহরের নামাজের পর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে খামেনির ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান ছিল।
লাহোরের মসজিদ-ই-মনসুরায় আয়াতুল্লাহ খামেনির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ নেতা হাফিজ মুহাম্মদ ইদ্রিস এই জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির লিয়াকত বালুচ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যেই ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছিল। ইরানের ওপর হামলা পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর হামলা।’ তিনি মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে করাচির এমটি খান রোডে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আব্বাস টাউন থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে শিয়া সংগঠনগুলোর হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা রেড জোনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে আরও বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে তেহরিক-ই-জাফারিয়া পাকিস্তান। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরো রেড জোন সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে সাঁজোয়া যান ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কোনো ধরনের জমায়েত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।