পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় ভয়াবহ গাড়িবোমা ও সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে একটি পুলিশ চেকপোস্টকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের তথ্যমতে, এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে চেকপোস্টে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো চেকপোস্ট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের পর হামলাকারী পাশের একটি ভবনে ঢুকে বেঁচে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে সহায়তা দিতে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরাও হামলার মুখে পড়েন।
রোববার (১০ মে) বিবিসি জানিয়েছে, হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন’ নামের একটি জঙ্গি জোট। ধারণা করা হয়, পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই সংগঠনটি।
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে চেকপোস্টের ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, পোড়া ধাতব কাঠামো ও ইট-পাথরের স্তূপ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনজন পুলিশ সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। এখনো উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বান্নুর জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও আমাদের সদস্যরা সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। উগ্রপন্থীদের এই কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নিহতদের রক্তের হিসাব নেওয়া হবে।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন—দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে। তবে আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।