পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ‘অন-অ্যারাইভাল’ বা পৌঁছানোর পর ভিসা পাওয়ার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কাতার। খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত মঙ্গলবার দোহায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের জারি করা এ নির্দেশনায় আরও বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণবিধিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় প্রবেশ-সংক্রান্ত যাচাই আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আগে থেকে ভিসা সংগ্রহ না করে কাতারে পৌঁছানো পাকিস্তানি নাগরিকেরা অভিবাসন কাউন্টারে প্রবেশে বাধা এবং বিড়ম্বনার মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে কাতারে ভ্রমণে ইচ্ছুক পাকিস্তানি নাগরিকদের জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমানে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বিড়ম্বনা এড়াতে কাতারে আসার আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ভিসা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
ভ্রমণকারীদের শেষ মুহূর্তের ভিসা সুবিধার ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
পাকিস্তানি ভ্রমণকারীদের দাপ্তরিক মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত খবরাখবর রাখতে এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ভিসা সেন্টারের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।
দোহায় পাকিস্তান দূতাবাস কাতারে যাতায়াতকারী তাদের নাগরিকদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে দেশটিতে আসার আগে সব প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, এই সাময়িক স্থগিতাদেশে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দ্রুত ভ্রমণের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং স্বল্পমেয়াদি কর্মীরা, যারা সাধারণত অল্প সময়ের নোটিশে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাতায়াত করেন। এ ধরনের ভ্রমণকারীদের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ ছিল একটি সহজ বিকল্প। সেটি না থাকায় জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এখন আগেভাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
লেবাননের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে কাতার। এখন লেবাননের ভ্রমণকারীদের সরকারি ‘হাইয়া’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রিন্ট করা অনুমোদনপত্র বিমানবন্দরে সঙ্গে রাখতে হবে।
এদিকে, সৌদি আরব সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে ৫ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতও ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
এই পরিস্থিতিকে ‘স্পর্শকাতর’ বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিব সালমান চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এখনো পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে একবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা প্রত্যাহার করা খুব কঠিন হবে।’
কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর সামিনা মুমতাজ জেহরি এ উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ভিসার অপব্যবহারের একাধিক ঘটনার পরই এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পাকিস্তানিরা ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে’ এবং ‘খুব সীমিত সংখ্যক ভিসা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তাও অনেক কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।’