যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা শুক্রবারের আগেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র। এই বিষয়টি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন, ইরান বলছে—যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জন্য এখনো কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তবে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পাকিস্তানি সূত্রগুলো কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছে, কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভারী পরিবহন বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।’ এই ঘাঁটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত। এবং এর আগে, আলোচনার জন্য অতিথিরা এই ঘাঁটিতেই অবতরণ করেছিলেন।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ‘বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের রেড জোনে যাওয়ার সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।’ সূত্রগুলো সবশেষে জানিয়েছে, ‘ইসলামাবাদে গত আলোচনার ভেন্যু সেরিনা হোটেল ইসলামাবাদ ও ইসলামাবাদ ম্যারিয়ট হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো বুকিং গ্রহণ করা হচ্ছে না।’
১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনার স্থান ছিল এই সেরিনা হোটেল।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল শনিবার বলেন, ‘অগ্রগতি হয়েছে’, তবে দুই পক্ষ এখনো ‘চূড়ান্ত আলোচনা থেকে অনেক দূরে।’
অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। ইরানের আবারও হরমুজ প্রণালির শিপিং চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়াকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পারমাণবিক ইস্যু উত্থাপনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধপ্রবণ নয়; বরং আত্মরক্ষার অবস্থানে রয়েছে এবং সম্মানজনকভাবে যুদ্ধের অবসান চায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেহরান একদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলছে, আরেক দিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। সমাধান খুঁজে বের করাই তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে। প্রথমত, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং অনিশ্চয়তায় ঘেরা। স্পষ্টতই তেহরান এই অবস্থাকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।